শনিবার, ০৮ মে ২০২১, ০২:৪৩ পূর্বাহ্ন




আত্রাই রাণীনগরের উন্নয়নের সোপান ইসরাফিল আলম এম’পি

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ২৯ জানুয়ারী, ২০২০
  • ১৬৭ Time View

এম মতিউর রহমান মামুনঃ স্বাধীনতা পরবর্তী কলঙ্কিত আত্রাই রাণীনগরকে কলঙ্ক মুক্ত করার দায়িত্ব কিছুটা ইসরাফিল আলমের কাঁধেই পরে। দেশের ৪৭ বছরের চলমান রাজনীতি, ক্ষমতার পালা বদলও দলীয় প্রার্থী নির্বাচনের উপর ব্যাখ্য করে। কেননা মরহুম নেতা বয়তুল্লাহ পর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আর কেউ নির্বাচিত হতে পারেনি। তাই ইসরাফিল আলম ২০০৮ সালের নির্বাচিত হলে দ্বায়িত্ব বহুগুণে বেড়ে যায়। অর্পিত দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গেই পালন করেছেন তিনি।

ইসরাফিল আলম এমপি

বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী জননেতা ইসরাফিল আলম গুণী রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, সমাজ সংস্কারক, সংগঠক, শিল্পী বটে। সর্ব হাস্যজ্জল মানুষ, কখনো নেতা কর্মীদেব সঙ্গে রেগে কথা বলতে দেখিনি। বরং নেতা কর্মী যত রেগেই থাকুক না কেন মাথায় পরশ দিয়ে শান্ত করেন। খেটে খাওয়া সাধারন মানুষের কষ্ঠের কথা শুনেন মন দিয়ে, দুঃখ, কষ্ট লাঘবের চেষ্টা করেন সাধ্যমতো। অভাবগ্রস্থ সাধারণের কথা ভাবেন, গরীব ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষার জন্য সহযোগিতা করেন। দলীয় অনুষ্ঠানেও সহয়োগিতাও করেন রীতিমত। নেতাকর্মীর অভাব মোচন করেন যথাযথই।

এভাবেই নেতা ইসরাফিল আলম আজ আত্রাই রাণীনগরে গণ মানুষের নেতা। নির্যাতিত মানুষের পাশে থাকাই তার ব্রত। জঙ্গিবাদ মুক্ত, নকশাল মুক্ত আত্রাই-রাণীনগর গড়ে জননেতা মোঃ ইসরাফিল আলম চির অম্লান এই জনপদে। দুঃখের বিষয় একটি মহল কৌশলে তাঁর জনপ্রিয়তা নষ্টের অপতৎপরতায় লিপ্ত আছে। এমকি আত্মবিশ্বাসী এই মানুষটির সংগে বসে তাকে দিয়ে ভুল কিছু সিদ্ধান্ত কৌশলে বাস্তবায়নের অপচেষ্টায় লিপ্ত! তাদের উদ্দ্যেশ্য তাঁকে গণ বিচ্ছিন্ন করা। বলে রাখা দরকার জনগণের আর্শিবাদে যাঁরা নেতা হন তাঁকে বিচ্ছিন্ন করা যায়না, প্রতিভা, মেধা কখনোই চিরতরে ধ্বংস করা যায়না তবে সাময়িক তাঁর কর্মক্ষেত্রকে অশান্ত করা যায়।

অশান্ত আত্রাই-রাণীনগর শান্তির সু-ব্তাাস বইছে বলেই মনে হয়। মানুষ শান্তিতে ঘুমাতে পারছে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। জনসাধারণের ভাষ্য মতে সুখে আছে, তাঁদের এলাকার যথেষ্ট উন্নয়ন ও হয়েছে, চাহিদাও পূরণ হয়েছে শতভাগই তা বলা যেতে পারে। এর বাইরে নতুন করে কি প্রাপ্তি আছে? প্রাপ্তি আছে উচ্চাভিলাসী একটা মহলের যাঁরা নতুন করে ষড়যন্ত্র করে আত্রাই রাণীনগর অশান্ত করে ফায়দা লুটানোর চিন্তা করছেন। তাদের অবশ্যই জানা আছে আত্রাই রাণীনগরের মানুষ ইতিপূর্বে জননেতা আব্দুল আজাদ মোল্লা, মোসলেম মোল্লা, বয়তুল্লাহ সাহেব, মোতাহার হোসেন চৌধুরী, রেজাউল ইসলাম মোল্লা ওহিদুর রহমান, আলমগীর কবির ও বর্তমান ইসরাফিল আলমকে স্বাধীনতার পূর্বাপর এম, পি হিসাবে পেয়েছেন। যতটা শুনেছি মোল্ল্যা আজাদ সাহেবকে হত্যার পর আত্রাই রাণীনগরের মানুষ আহত পাখির মত কেঁদেছিলেন তাঁর সৃষ্ট কর্মে।

আর জননেতা বয়তুল্যা সাহেব আত্রাই রাণীনগরের বাসিন্দা না হলেও এ আসন থেকে নির্বাচিত বাংলাদেশের প্রথম ডেপুটিস্পিকার হয়ে নওগাঁবাসীকে সম্মানিত করেছেন। বাঁকি এমপি মন্ত্রী’দের স্বপ্প ও দীর্ঘ রাজনৈতিক কর্মজীবনের বিচার বিশ্লেষণের দ্বায়িত্ব আত্রাই রাণীনগর শান্তিকামী মানুষে কিছু উচ্চভিলাসী বিপথগামী,পথভ্রষ্ট নেতার নয়। ইসরাফিল আলমের রাজনৈতিক জীবন শুরু ১৯৮৪ সালের দিকে ঢাকাতে। ১৯৮৪ থেকে ২০০১ পর্যন্ত জাতীয় শ্রমিক লীগ হয়ে মহানগর শ্রমিক লীগেরর সাধারণ সম্প্রাদক তার পর নিজ এলাকা আত্রাই রাণীনগরে ।

জাতীয় শ্রমিক লীগের রাজনীতিতে শ্রমজীবি খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের প্রতি যে মমত্ববোধ, শ্রদ্ধা, ভালোবাসা অর্জন করেছিলেন তার প্রতিফলন পেলেন আত্রাই রাণীনগরের জনতা ২০০৮ সালে এমপি নির্বাচিত হবার পর। তাঁকে নিয়ে যতটা জেনেছি তিনি ঘি খাওয়া পরিবারের ছেলে। তাঁর মরহুম পিতা আজিজুর রহমান ছিলেন বঙ্গবন্ধুর আশীর্বাদপুষ্ট ও একজন আমৃত্যু আওয়ামী লীগের নিঃস্বার্থ পৃষ্ঠপোষক। বড় ভাই বীর মুক্তি যোদ্ধা। তিনি এলাকাতে এসেছেন পাজেরো গাড়ি চড়ে। ছেড়া সেন্ডেল ভাঙ্গা বাইকে চেপে নয়। তাঁকে প্রথম এলাকাতে এনেছিলাম পতিসরে ‘ রবীন্দ্র সাহিত্য পরিষদ’ প্রতিষ্ঠার মধ্যে দিয়ে। পতিসর তখন বই শূণ্য ছিল। রবীন্দ্রনাথের স্বপ্নের কাচারি বাড়ির চারিদিকটা ছিল অবৈধ দখলদারদের হাতে জিম্মি। বাড়ির মধ্যে ধেলা, সভা সমাবেশ, বারান্দায় রীতিমত চলতো চাল-ডাল বিক্রি, নিচে মাছের আড়ৎ। তখন সাহিত্য পরিষদের জন্য প্রায় লক্ষাধিক টাকার বই, হারমোনিয়ান সহ তাঁর প্রিয় সাংবাদিক বন্ধু দিনেশ দাস’কে নিয়ে পতিসরে আসেন । বই বিতরণ অনুষ্ঠান রীতিমত পরিণত হলো বিশাল কর্মী সভাতে। উপস্থিত জনতা দ্বাবি তুললেন আপনাকে নৌকা মার্কার প্রার্থী হিসাবে দেখতে চাই। পরে তাই হলো।

এরপর ২০০৪ সাল, বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দেখা ইসরাফিল আলমের সঙ্গে। দীর্ঘ আলাপ প্রসঙ্গ আত্রাই- রাণীনগর, মান্দা, বাগমারা জঙ্গি উত্থান। আত্রাই -রাণীনগরের তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবিরের মদদে চলছে জঙ্গিদের হত্যা যজ্ঞ লুটপাট, চাঁদাবাজি । আত্রাই-রানীনগরের অসহায় সাধারণ মানুষগুলো মুক্তির গল্প।

সে দিন তিনি বলেছিলেন ‘এলাকায় জঙ্গিবাদের যে বীজ বপন করে গেল জানিনা তা থেকে সাধারণ মানুষ কে মুক্ত করতে কত সময় লাগবে? যদি আমি তোমাদের এমপি নির্বাচিত হতে পারি আমার সেবা দিয়ে, আমার শ্রম দিয়ে তোমাদের মুক্ত করবো’। সেদিন আমি তাঁর কণ্ঠে শুনেছিলাম সিংহগর্জন, ঠিক যে গর্জন আত্রাই রাণীনগরের মানুষ শুনতে চেয়েছিলেন কিন্তু কলার লোভে বাদঁরের মুখ ভেংচি দেখতে চাননি এই জনপদের মানুষ, এখনো চান না। যাহোক তাঁর কথাই সত্য হলো, আমরা পেলাম সন্ত্রাসমুক্ত এলাকা।

তবে সন্দেহ হয় সেদিনের সেই বীজ আবার কি অঙ্কুরিত যাচ্ছে? কেননা যেখানে মিথ্যা, পরনিন্দা, আক্রোস ক্ষমতা দখলের অপতৎপরতা শুরু হয় হত্যা ধ্বংস যজ্ঞ সেখানে বাসা বাঁধে ! বাংলার স্বাধীন নবাব সিরাজউদদৌল্যা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু এসবের উদাহরণ। তাঁরা ক্ষমা ক্ষমা করেছিলেন কিন্ত তাঁদের ক্ষমা করা হয়নি। নবাব সিরাজ ও বঙ্গবন্ধুর প্রতি যারা অবিচার করেছিলেন তাদের শেষ পরিণতির কথাও আমাদের জানা। তাই বলতে হয় মিথ্যা সমালোচনা করা আত্মঘাতির সামিল। এসব মিথ্যা গীত ছেড়ে দিয়ে নেতাজীর কাছে শিশু শিক্ষা নিয়ে এসে অধ্যয়ন শুরু করুন অন্তত ভাল মানুষ কিভাবে হওয়া যায় এবং সম্মানিত উচ্চ শিক্ষিত লোককে কিভাবে মর্যাদা দেয়া যায় সেই শিক্ষা পাবেন। তাতে ভবিষ্যত উজ্জল হওয়ার সম্ভবনা আছে। আর নিজের কথা না ভেবে সার্বিক চিন্তাতেই দল ও জনসাধারণের কল্যাল হতে পারে, তাতে আত্রাই রাণীনগরের মানুষের জন্য মঙ্গল সাধিত হবে।

লেখকঃ রবীন্দ্রস্মৃতি সংগ্রাহক ও গবেষক




More News Of This Category
© All rights reserved © 2020 Atozithost
Design & Developed by: ATOZ IT HOST
Tuhin