• বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:০৯ পূর্বাহ্ন
Headline
সমাজ উন্নয়নে অংশীদারীত্ব হয়ে কাজ করে যাচ্ছেন সাবেক ছাত্রনেতা ফয়সাল এখনই উঠছে না লকডাউন। বাড়ছে বিধিনিষেধ। সিদ্ধান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয়ের। শ্রীপুরে রাস্তা পার হতে গিয়ে কাভার্ড ভ্যান চাপায় স্বামী-স্ত্রী নিহত কঠোর লকডাউন কতোটা ফলপ্রসূ? সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ। করোনায় স্বাস্থ্যবিধি মানতে নড়াইলে মাশরাফির ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ কি কি থাকছে সাত দিনের কঠোর লকডাউনে? লাগামহীন করোনার ভয়াবহতা! সোমবার থেকে কঠোর লকডাউন, মাঠে থাকবে সেনাবাহিনী। দেশের শীর্ষ পর্যটনকেন্দ্রের তালিকায় অপার সম্ভাবনার নাম সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা নতুন সাতটি প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর সম্পূর্ণ করলো শ্রেষ্ঠ ডট কম রাণীনগরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে একই পরিবারের তিন জনকে অপহরণ নাটোক!




কঠোর লকডাউন কতোটা ফলপ্রসূ? সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ।

Reporter Name / ৯৭ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৩ জুলাই, ২০২১




বাপ্পী খান, ঢাকা।

দেশে লাগামহীনভাবে বৃদ্ধি পাওয়া করোনার প্রকোপ ঠেকাতে প্রথম দফায় ১লা জুলাই হতে ৭ই জুলাই এবং দ্বিতীয় দফায় সেটার মেয়াদ বাড়িয়ে ৭ই জুলাই হতে ১৫ই জুলাই পর্যন্ত কার্যকর করা হয় কঠোর লকডাউন। জনগনের চলাচল সীমিত কর‍তে এবং কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে পুলিশ, র‍্যাবের পাশাপাশি মাঠে নামানো হয় বিজিবি ও সেনাবাহিনী। বন্ধ রাখা হয় সকল সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠান। দুই দফায় সরকারের এ পদক্ষেপের মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। মন্ত্রণালয় থেকে সাংবাদিকদের জানানো হয় পবিত্র ঈদুল আযহা কে সামনে রেখে ১৫ই জুলাই হতে ২২শে জুলাই পর্যন্ত লকডাউন কিছুটা শিথিলের পরিকল্পনা করছে সরকার। ২৩শে জুলাই থেকে আবারো সেই কঠোর লকডাউন বহাল থাকবে ১৪দিন পর্যন্ত। এ ব্যাপারে আজ মঙ্গলবার প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের প্রশ্ন হলো ২১ তারিখে ঈদ পালন করে ২৩ তারিখের মধ্যে সবাইকে ফিরতে গেলে যে একটা জটলা সৃষ্টি হবে তাতে করোনা সংক্রমণের হার বাড়বে ছাড়া কমবে না একইসাথে রয়েছে প্রাণহানির ঝুঁকি।

তবে,কোরবানি ঈদের কথা মাথায় রেখে লকডাউন শিথিলের যে সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার সেখানে নির্দিষ্ট স্থানগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বসবে পশুর হাট। দোকানপাট ও শপিংমল সীমিত আকারে খোলার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়েছে এ ছাড়াও স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবং একসিট ফাঁকা রেখে অনলাইনে বিক্রি হবে ট্রেনের টিকিট। কাউন্টার থাকবে বন্ধ। একই নিয়মে চলবে লঞ্চ ও দূরপাল্লার বাস।

 কিন্তু প্রশ্ন হলো টানা ১৫ দিনের যে কঠোর লকডাউনের আওতায় ছিল দেশ তা ঠিক কতোটা কার্যকর হয়েছে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায়? এ কঠোর লকডাউনের মধ্যে ও থেমে নেই সংক্রমণের হার ও করোনায় মৃত্যুর লাশের সারি। গতকাল সোমবারও রেকর্ড সংখ্যক মৃত্যু হয়েছে ২২০ জন এবং সনাক্ত হয়েছেন আরো প্রায় ১৪ হাজারের কাছাকাছি। সনাক্তের হার ৩১.২৪%। আজ মঙ্গলবার মৃতের সংখ্যা ২০৩ জন এবং সংক্রমিত হয়েছেন প্রায় ১৩ হাজারের মত।

তাহলে এ কঠোর লকডাউন কি আসলেই করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারছে নাকি নামের সাথে মিল রেখে বাস্তবায়ন নেই প্রকৃত কঠোরতার?

সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষজন এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের যেন রীতিমত নাভিশ্বাস উঠে গেছে। তাদের কাছে এভাবে বেঁচে থাকার চেয়ে করোনায় মৃত্যুই হয়তো শ্রেয়। কঠোর এ লকডাউনেও থেমে নেই সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। প্রতিটি পাড়া, মহল্লায়, অলি গলিতে প্রায়শই সন্ধ্যার পর দেখা যাচ্ছে অনেককেই একত্রে জড় হতে সেই সাথে থেমে নেই অপ্রয়োজনে ঘোরাঘুরি।
একজন বিশেষজ্ঞের মতে, কঠোর লকডাউন মাসের পর মাস দিয়েও করোনার ভয়াবহতা ঠেকানো যাবে না যদি কিনা এর সঠিক বাস্তবায়ন না থাকে এবং প্রতিটি মানুষ সঠিকভাবে নিয়ম না মানে। তার মতে এ কঠোর লকডাউনে আমরা দেখেছি কিছু মানুষ কে গ্রেফতার করতে, জরিমানা করতে এবং কিছু ব্যক্তিগত যানবাহন কে জরিমানার আওতায় আনতে কিন্তু করোনা সংক্রমণের হার কিন্তু থেমে নেই বরং এটা ঊর্ধ্বমুখী। তাহলে এ কঠোর লকডাউনের প্রয়োজনীয়তা কি? বিষয়টি নিয়ে সরকার কে বাস্তবে আরো কঠোর হতে হবে।

এদিকে সাধারণ মানুষ, দিনমুজুর, শ্রমিক এসকল মানুষজন পড়েছে কঠিন বিপাকে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ নিম্ন আয়ের এসকল মানুষের জন্য ৩ হাজার ২০০ কোটি টাকার ৫টি প্রণোদনা প্যাকেজের ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু, কোথাও যেন নেই কোন সঠিক মনিটরিং, যথাযথ নিয়ম কিংবা পদক্ষেপ। দিনের যে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কাচাঁবাজার সহ প্রয়োজনীয় দোকানপাট খোলা রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে সেখানেও লক্ষ্য করলে দেখা যাবে মানুষের যেন কমতি নেই। প্রয়োজনে এ ব্যাপারেও কোন পাশ কিংবা প্রি রেজিষ্ট্রেশন সিস্টেম চালু করতে হবে এবং একটি বাজারে প্রতিদিন একই সময়ে নির্দিষ্ট মানুষের উপরে জড়ো হতে দেয়া যাবে না এবং অবস্থান করারও নির্দিষ্ট সময়সীমা থাকতে হবে। সরকার কর্তৃক সকল অফিস বন্ধ ঘোষণা করা হলেও আমাদের দেশের বেশিরভাগ বেসরকারী অফিসই সে আদেশের কোন তোয়াক্কা করেন না। বরং প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের চাপ প্রয়োগ করা হয় যেভাবেই হোক অফিসে যেতে। এ বিষয়গুলো সরকারকে সঠিকভাবে মনিটরিং করতে হবে।

একদম নিম্নশ্রেণীর বা পেশার মানুষ এবং দিনমুজুর, শ্রমিক সহ খেটে খাওয়া প্রতিটি মানুষের ঘরে খাবার পৌঁছে দেবার জন্য প্রতিটা জনপ্রতিনিদের নির্দেশ দিতে হবে এবং এ ব্যাপারে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। অনেকেই মানছেন না সঠিক কোন নিয়ম। সার্জিক্যাল মাস্ক একবার পরে ফেলে দেবার নিয়ম থাকলেও বেশিরভাগ মানুষই যেন স্রেফ মুখে একটা মাস্ক লাগিয়ে রাখার জন্যই একটাই মাস্ক ব্যবহার করছেন দিনের পর দিন। সেটা কি আদৌ ব্যবহার উপযোগী কিনা এ ব্যাপারে জানেন না অনেকেই আর জানলেও মানছেন না। যতবার সম্ভব সাবান পানিতে ভাল করে হাত পরিষ্কারের কথা বলা হলেও সঠিকভাবে নিয়ম মেনে করছেন কয়জন? সামাজিক দূরত্ব প্রায় ক্ষেত্রেই মোটেই মানা হচ্ছে না। এমন প্রতিটা বিষয় মানতে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ আর উদ্বুদ্ধ করতে হবে। অতি জরুরি প্রয়োজন ব্যতিত ঘর থেকে যেন কেউ এ সময়ের মধ্যে অন্তত বের না হয় সে ব্যাপারে সকল কে সজাগ থাকতে হবে। দেশের সকল বয়সী ও শ্রেণীপেশার মানুষ কে যতদ্রুত সম্ভব পর্যায়ক্রমে ভ্যাকসিনের আওতায় আনতে হবে। সর্বোপরি মনে রাখতে হবে করোনা ভাইরাস কোন ছোটখাটো মহামারী নয়। আর তাই এ মহামারী থেকে চিরতরে রক্ষা পেতে সরকার এবং জনগণকে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালন করা ছাড়া বিকল্প কিছুই নেই৷ আর এ সকল বিষয়গুলো যদি নিশ্চিত করা যায় তবে অনেকটাই আশাবাদী হয়ে বলা যেতে পারে লকডাউনের সুফল আমরা অবশ্যই পাবো অন্যথায় এটি শুধু সরকার আর সাধারণ মানুষের মাঝে দূরত্বই সৃষ্টি করবে আর বাড়াবে সংক্রমণ ও মৃত্যু। যা থেকে বাঁচার হয়তো কোন উপায়ই আর থাকবেনা।

লেখক, সাংবাদিক
বাপ্পী খান।
সিনিয়র যুগ্ন মহাসচিব, বাংলাদেশ সম্মিলিত সাংবাদিক সোসাইটি (BUJS)





আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category




side bottom