মঙ্গলবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২০, ১১:৪৬ অপরাহ্ন
Title :
রাণীনগরে সপ্তাহ ব্যাপী নারী উন্নয়ন ও ক্ষমতায়ন বিষয়ক আলোচনা সভা রাণীনগরে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদে ইউপি চেয়ারম্যানের সংবাদ সম্মেলন রাণীনগরে প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন বিষয়ক মত বিনিময় সভা গাইবান্ধায় নবাগত অফিসার ইনচার্জ-এর সাথে নিযাচা’র মতবিনিময় সভা রাণীনগরে নারী উন্নয়ন ও ক্ষমতায়ন বিষয়ক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত রাণীনগরে নিখোঁজের চার দিনের মাথায় পুকুর থেকে বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার রাণীনগর উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি পেলেন “নৌকা” সম্পাদক নিলেন “মটরসাইকেল”প্রতিক নড়াইলে মাশরাফির পক্ষ থেকে আশরাফুজ্জামান মুকুলের নেতৃত্বে বিশাল শোডাউন রিয়েলিটি শো “বাংলার গায়েন” ১০০ জন প্রতিযোগীতার মধ্যে অবস্থান করে নিয়েছেন নওগাঁর মেয়ে নূসরাত মাহী। রাণীনগর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে উপ-নির্বাচনের ধুম শুরু




খোকা থেকে বঙ্গবন্ধু তথা বিশ্বনেতা হয়ে ওঠার গল্প

Reporter Name
  • আপডেট টাইম: মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২০

বাপ্পী খান, ঢাকা: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি আদর্শ, চেতনা ও দর্শনের নাম। বঙ্গবন্ধু জাতির জনক ও বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্থপতি। বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ। এমন সব স্বীকৃতি তার প্রাপ্য এবং তা তার কর্মগুণেই। তিনি নিজেই একটি ইতিহাস। আর তাই তো কিউবার নেতা ফিদেল কাস্ত্র বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে বলেছিলেন, আই হ্যাভ নট সিন দ্যা হিমালয়াস, বাট আই হ্যাভ সিন শেখ মুজিব। ইন পার্সোনালিটি এন্ড ইন কারেজ দিস ম্যান ইজ দ্যা হিমালয়াস, আই হ্যাভ দাজ হ্যাড ডি এক্সপিরিয়েন্স অব উইটনেসিং দ্যা হিমালয়াস। অর্থাৎ আমি হিমালয় দেখিনি তবে আমি শেখ মুজিব কে দেখেছি। ব্যাক্তিত্ব ও সাহসে এই মানুষটি হিমালয়ের সমতূল্য। আর এভাবেই আমি হিমালয় দেখার অভিজ্ঞতা লাভ করেছি।

পঞ্চান্ন বছরের যাপিত জীবন ছিল বঙ্গবন্ধুর, যা সময়ের বিচারে সংক্ষিপ্তই বলা যায়। কিন্তু জীবনের দৈর্ঘ্যর চেয়ে তার কর্মের প্রস্থ ছিল অনেক বেশি- ইংরেজিতে যা বলা হয়, Larger than life অর্থাৎ জীবনের চেয়ে বড়।

খোকা নামক এ শিশুটি ১৯২০ সালের ১৭ই মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম শেখ পরিবারে শেখ লুৎফর রহমান ও সায়েরা খাতুনের ঘর আলোকিত করে জন্মগ্রহণ করেন। খোকার পুরোনাম শেখ মুজিবুর রহমান। অতঃপর টুঙ্গিপাড়ার শেখ মুজিবুর রহমান দেশের গণ্ডি পেরিয়ে হয়ে ওঠেন বিশ্ব ইতিহাসের কিংবদন্তি মহানায়ক ও মহাপুরুষ। খোকার বঙ্গবন্ধু হয়ে ওঠার পেছনে রয়েছে অদম্য ত্যাগ, অকুতোভয় নেতৃত্ব আর গভীর দেশপ্রেম। পিছিয়ে পড়া বাঙালি জনগোষ্ঠীর দায়িত্ব নেয়ার মতো মহৎ গুণ হৃদয়ে ধারণ করেছিলেন শৈশব থেকেই। মুষ্টির চাল উঠিয়ে গরিব ছেলেদের বই এবং পরীক্ষার খরচ বহন করা, সর্বোপরি আর্তমানবতার সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন তিনি। সেদিনের ছোট্ট খোকা বঙ্গবন্ধু হয়ে উঠেছিলেন অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে।

স্বাধীনতার জন্য তিনি এ বাংলার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে বেড়িয়েছেন। প্রতিটি বাঙালির কাছে পৌঁছে দিয়েছেন পরাধীনতার নিগড় থেকে মুক্ত হওয়ার মর্মবাণী। শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক জীবন ১৯৩৯ সালে শুরু হলেও ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাজন-পরবর্তী পূর্ব পাকিস্তানের রাজনীতিতে তিনি একজন প্রখ্যাত তরুণ ছাত্রনেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৫৮-এর সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন, ’৬৬-এর ছয় দফা, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানসহ প্রতিটি স্বাধিকার আন্দোলনে নেতৃত্ব প্রদান করেছেন শেখ মুজিবুর রহমান।

আর আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে মুক্তি পাওয়ার পরদিন ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ কর্তৃক আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় তৎকালীন ছাত্রনেতা তোফায়েল আহমেদ শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করেন।

১৯৬৯ সালের ৫ ডিসেম্বর আয়োজিত এক জনসভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব পূর্ব বাংলার নামকরণ করেন ‘বাংলাদেশ’। তিনি বলেন, “একসময় এদেশের বুক হইতে, মানচিত্রের পৃষ্ঠা হইতে ‘বাংলা’ কথাটির সর্বশেষ চিহ্নটুকুও চিরতরে মুছিয়া ফেলার চেষ্টা করা হইয়াছে। … একমাত্র ‘বঙ্গোপসাগর’ ছাড়া আর কোন কিছুর নামের সঙ্গে ‘বাংলা’ কথাটির অস্তিত্ব খুঁজিয়া পাওয়া যায় নাই। … জনগণের পক্ষ হইতে আমি ঘোষণা করিতেছি- আজ হইতে পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশটির নাম পূর্ব পাকিস্তানের পরিবর্তে শুধুমাত্র বাংলাদেশ”।

১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ: বঙ্গবন্ধু তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে এক যুগান্তকারী ভাষনে ঘোষণা করেন, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম। যে ভাষণ আজও বাঙালীর মুক্তির একমাত্র হাতিয়ার, যে ভাষণ পুরো বিশ্বজুড়ে সমাদৃত ও ইউনেস্কো কর্তৃক স্বীকৃত। বঙ্গবন্ধুর এই ভাষনে ষ্পষ্ট হয়ে যায় স্বাধীন বাংলাদেশের ভবিষ্যত। সারাদেশে শুরু হয় এক অভূতপূর্ব অসহযোগ আন্দোলন।

২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং জনগণকে সর্বাত্মক আন্দোলনে সামিল হতে আহ্বান জানান।

১৯৭১ সালের ১৭ই এপ্রিল গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম সরকার গঠিত হয় এবং শেখ মুজিবকে রাষ্ট্রপতি করা হয়। তাঁর অনুপস্থিতিতে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম। এ সরকারের অধীনেই গঠিত হয় মুক্তিবাহিনী এবং শুরু হয় পাক সেনাদের প্রতিহত করার পালা। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের পর, ৩০ লক্ষ বাঙ্গালীর প্রাণের বিনিময়ে অবশেষে আসে বিজয়। ১৬ ডিসেম্বর সেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যান যেখান থেকে স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু, সেখানেই বাংলাদেশ-ভারত মিত্রবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পন করে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী। পৃথিবীর মানচিত্রে জন্ম নেয় বাংলাদেশ নামের নতুন একটি দেশ।

শেখ মুজিব শুধু একটি নাম নয়, শেখ মুজিব মানেই বাংলাদেশ। স্বাধীন বাংলাদেশ সৃষ্টির আগে প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রাম থেকে শুরু করে প্রতিটি ঐক্য, কোথায় নেই বঙ্গবন্ধুর অবদান?

কিন্তু, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট মধ্যরাতে একদল বিপথগামী সেনা কর্মকর্তা হত্যা করে শেখ মুজিব এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের। কেবল তাঁর দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা সেই সময় দেশের বাইরে থাকায় বেঁচে যান। সদ্য স্বাধীন জাতির জীবনে এক অপূরণীয় ক্ষতি নিয়ে আসে এই জঘন্য হত্যাকাণ্ড, তৈরি করে রাজনৈতিক শূণ্যতা, ব্যাহত হয় গণতান্ত্রিক উন্নয়নের ধারা।

বাঙালী জাতীর মুক্তির মহানায়ক, ১৭ই মার্চ পৃথিবীর ইতিহাসের এ মহান নেতা ও মহান ও মানুষ্টির আজ শততম জন্মবার্ষিকীতে তাকে জানাই লাখো সালাম, অন্তর থেকে ভালোবাসা আর সেইসাথে বিনম্র শ্রদ্ধা……………







এ জাতীয় আরো খবর..




FOLLOW US

ই-মেইল: ‍atozsangbad@gmail.com
ফেইসবুক
ইউটিউব

পুরাতন খবর

sidebar middole




side bottom




© All rights reserved © atozsangbad.com
Design & Developed by: ATOZ IT HOST
Tuhin
x