• রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:০২ পূর্বাহ্ন
Headline
সমাজ উন্নয়নে অংশীদারীত্ব হয়ে কাজ করে যাচ্ছেন সাবেক ছাত্রনেতা ফয়সাল এখনই উঠছে না লকডাউন। বাড়ছে বিধিনিষেধ। সিদ্ধান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয়ের। শ্রীপুরে রাস্তা পার হতে গিয়ে কাভার্ড ভ্যান চাপায় স্বামী-স্ত্রী নিহত কঠোর লকডাউন কতোটা ফলপ্রসূ? সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ। করোনায় স্বাস্থ্যবিধি মানতে নড়াইলে মাশরাফির ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ কি কি থাকছে সাত দিনের কঠোর লকডাউনে? লাগামহীন করোনার ভয়াবহতা! সোমবার থেকে কঠোর লকডাউন, মাঠে থাকবে সেনাবাহিনী। দেশের শীর্ষ পর্যটনকেন্দ্রের তালিকায় অপার সম্ভাবনার নাম সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা নতুন সাতটি প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর সম্পূর্ণ করলো শ্রেষ্ঠ ডট কম রাণীনগরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে একই পরিবারের তিন জনকে অপহরণ নাটোক!




গাজীপুরের শ্রীপুরে নিয়মনীতি না মেনে চলছে ফার্মেসী ব্যবসা

মোঃনাজিম উদ্দিন, গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি / ১২৪ Time View
Update : শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২০




গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বিভিন্ন বাজারের অলিতে-গলিতে ব্যাঙের ছাতার মত গড়ে উঠেছে শত শত ফার্মেসীর দোকান। ঔষধ প্রশাসনের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে শুধু ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন বাজারে অনেকেই ফার্মেসী দিয়ে বসে পড়েছেন ঔষধ বিক্রির ব্যবসায়। এসব ফার্মেসী গুলোতে অ্যান্টিবায়োটিক, নিষিদ্ধ, ভারতীয়, নকল, মেয়াদোত্তীর্ণ ও নিম্নমানের নানা প্রকার ঔষধ বিক্রি করছে অবাধে। ফলে রোগ নিরাময়ের পরিবর্তে সঠিক ঔষধের অভাবে আরও জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন রোগীরা। এতে আর্থিক, শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন অনেক রোগী ও তাদের পরিবার-পরিজনরা।

উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় গড়ে উঠেছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারের বিপুল সংখ্যক ফার্মেসী। এসব ফার্মেসী চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক, নিষিদ্ধ, নকল, মেয়াদোত্তীর্ণ ও নিম্নমানের নানা প্রকার ওষুধ বিক্রি করছে অবাধে। ফার্মেসি গুলোতে নেই কোনো প্রশিক্ষিত ফার্মাসিস্ট। ফলে রোগ নিরাময়ের পরিবর্তে আরও জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে রোগীরা। এতে আর্থিক, শারীরিক ও সেই সঙ্গে মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন রোগী ও তাদের স্বজনেরা।

ঔষধ প্রশাসনকে বৃদ্ধা আঙ্গুল প্রদর্শন করে শ্রীপুর উপজেলার প্রায় ঔষধের দোকানগুলোতে অবাদে বিক্রি হচ্ছে এসব নিষিদ্ধ ঔষধ। অধিকাংশ ফার্মেসী, ড্রাগ লাইসেন্সের শর্ত না মেনে অদক্ষ লোক দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছে। মাধ্যমিকের গণ্ডি পার হননি এমন অনেকেই ফার্মেসী দিয়ে ঔষধ বিক্রি করে যাচ্ছেন। অনেকে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্রও পড়তে পারেন না। ঔষধের নামের প্রথম অক্ষর দেখে অনুমান করেও ঔষধ বিক্রি করার অভিযোগ আছে।

অভিযোগ রয়েছে অনভিজ্ঞ এসব দোকানীরা ঔষধ কোম্পানির উপঢৌকনের লোভে অপ্রয়োজনেও যেমন তেমন ভাবে বিক্রি করে সকল প্রকার ঔষধ। এ ছাড়াও প্রকাশ্যে মজুদ রেখে বিক্রি করা হচ্ছে আমদানী নিষিদ্ধ ঔষধ।

কয়েকজন সচেতন ক্রেতার সাথে কথা বলে জানা যায়, এখন ফার্মেসিতে আর বিশেষজ্ঞদের দরকার হয় না। ঔষধ কোম্পানির রিপ্রেজেন্টেটিভরা বলে দেন কোন ঔষুধ কখন এবং কি কাজে লাগে- সেই মোতাবেক ওষুধ বিক্রি হয়। এছাড়া অনেক ঔষধের দোকানে নিম্নমানের ঔষধ কোম্পানির রিপ্রেজেন্টেটিভরা ঔষধ বিক্রি করে ।

অভিযোগ রয়েছে, শ্রীপুর উপজেলার পৌরসভা ও ৮টি ইউনিয়নের বাজারে গড়ে উঠেছে ফার্মাসিস্ট ও ড্রাগ লাইসেন্সবিহীন কয়েকশ’ ফার্মেসী। ফলে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত অপচিকিৎসার স্বীকার হচ্ছেন। বিশেষ করে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় ও অতিরিক্ত ভিজিটের কারণে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশু, বৃদ্ধ, যুবক এবং গর্ভবতী নারীরা বিশাল পথ পাড়ি দিয়ে উপজেলা সদরে রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের কাছে যেতে পারে না। তারা তাদের নিকটবর্তী বাজারের ফার্মেসীর শরণাপন্ন হয়ে রোগের বর্ণনা দিয়ে ঔষুধ নিয়ে থাকে।

উপজেলার ১টি পৌরসভা, মাওনা বাজার, এমসি বাজার, নয়নপুর বাজার, গাজীপুর বাজার, মেডিকের মোড়, নিজমাওনা বাজার, বাঁশবাড়ি বাজার, চকপাড়া মেডিকেল মোড়, জৈনা বাজার, বরমী বাজার, রাজাবাড়ি বাজার, বড়মা বাজার, কাওরাইদ বাজার, যুগির সিট মোড়, কাশেমপুর বাজার, বলদীঘাট বাজার ২ লং c&b বাজার সহ ৪০ থেকে ৫০টি বাজারের কয়েকশ’ ফার্মেসির ড্রাগ লাইসেন্স ও ফার্মাসিস্টের প্রশিক্ষণ নেই। ড্রাগ নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ, ১৯৮২-এর ৪ নম্বরের ১৩ নম্বর ধারার ‘ফার্মাসিস্টদের নিয়োগ’ শিরোনামের ২ নম্বর ধারায় উল্লেখ্য আছে- ‘কোনো খুচরা বিক্রেতা বাংলাদেশ ফার্মেসি কাউন্সিলের কোনো রেজিস্ট্রারের রেজিস্ট্রিভুক্ত ফার্মাসিস্টদের তত্ত্বাবধান ব্যতিরেকে কোনো ড্রাগ বিক্রি করতে পারবে না’। কিন্তু এসকল বিধি-বিধানকে তোয়াক্কা না করে উপজেলার অধিকাংশ ফার্মেসী চলছে প্রশিক্ষিত ফার্মাসিস্ট ছাড়াই। অল্প, শিক্ষিত ও অদক্ষ লোক বসিয়ে বিক্রি করছে জটিল সব রোগের ঔষধ। ফলে মানহীন ভুল ঔষধ যেমন বিক্রি হচ্ছে, তেমনি এসব ঔষধ কিনে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ক্রেতারা।

সাধারণত এ, বি, সি- এই তিন ধরনের ফার্মাসিস্ট রয়েছে দেশে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফার্মেসি বিভাগে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রিধারীরা হলেন- ‘এ’ ক্যাটাগরির। চার বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা কোর্সধারীরা ‘বি’ ক্যাটাগরির। আর তিন মাসের কোর্সধারীরা ‘সি’ ক্যাটাগরির ফার্মাসিস্ট। উপজেলার যে সকল ফার্মেসীতে ফার্মাসিস্ট রয়েছে তাদের ৯৯ শতাংশই ‘সি’ ক্যাটাগরির ফার্মাসিস্ট। এমনও রয়েছে যারা কোনো ক্যাটাগরিতেই পড়ে না। যাদের নুন্যতম শিক্ষাগত যোগ্যতা ৫ম শ্রেনী থেকে মাধ্যমিক পাশ। ফার্মেসীগুলো কোনো চিন্তাভাবনা না করেই ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ব্যতীত সিপ্রোফ্লোক্সাসিলিন, এজিথ্রোমাইসন সহ অনেক হাই অ্যান্টিবায়োটিক, ঘুমের ট্যাবলেট, ব্যথানাশক ও যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট অবলীলায় বিক্রি করছে।

জানা গেছে, ভেজাল ও নিম্নমানের ঔষধ বিক্রির ক্ষেত্রে ভালো মানের ঔষধের চেয়ে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশের বেশি কমিশন দেওয়া হচ্ছে। এতে করে বেশি লাভের আশায় ভেজাল ও নিম্নমানের ঔষধ বিক্রিতে বেশি আগ্রহী হচ্ছে ঔষধ ব্যবসায়ীরা। সাধারণ মানুষও কোন ঔষধটি আসল কোনটি নকল তা চিহ্নিত করতে অপারগ। যার ফলে ভেজাল ও নিম্নমানের ঔষধের বাণিজ্য দিন দিন সম্প্রসারিত হচ্ছে। আর স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে সাধারণ মানুষ। অনুমোদনহীন নকল, মেয়াদোত্তীর্ণ ও নিম্নমানের ঔষধ বিক্রি বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান জরুরি বলে মনে করছেন এলাকার সচেতন মহল।

এ ব্যাপারে শ্রীপুর উপজেলা ঔষধ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারন সম্পাদক ও সানজিদা মেডিকেল হলের স্বত্ত্বাধিকারী আলহাজ্ব এম এ সাত্তার জানান, ঔষধ প্রশাসনের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে শুধু ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন বাজারে অনেকেই ফার্মেসী দিয়ে বসে পড়েছেন । এখানে প্রায় ৫’শতাধিক ফার্মেসি রয়েছে তাদের মধ্যে হাতে গুনা কয়েকজনের ড্রাগ লাইসেন্স আছে। এ ব্যাপারে ঔষধ প্রশাসনিক কর্মকর্তা আকতার হোসেনের মুঠোফোনে একাধিক বার যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

ভ্রাম্যমান আদালত বা প্রশাসনিক কোন অভিযানের আগেই এসব অবৈধ ফার্মেসী বন্ধ করে রাখা হয়। তাই সচেতন মহলের দাবি ভ্রাম্যমান অভিযান পরিচালনা করার পুর্বে গোপনে তথ্য সংগ্রহ করে অভিযান পরিচালনা করলে তার সত্যতা মিলবে।





আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category




side bottom