• বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:২৮ পূর্বাহ্ন
Headline
সমাজ উন্নয়নে অংশীদারীত্ব হয়ে কাজ করে যাচ্ছেন সাবেক ছাত্রনেতা ফয়সাল এখনই উঠছে না লকডাউন। বাড়ছে বিধিনিষেধ। সিদ্ধান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয়ের। শ্রীপুরে রাস্তা পার হতে গিয়ে কাভার্ড ভ্যান চাপায় স্বামী-স্ত্রী নিহত কঠোর লকডাউন কতোটা ফলপ্রসূ? সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ। করোনায় স্বাস্থ্যবিধি মানতে নড়াইলে মাশরাফির ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ কি কি থাকছে সাত দিনের কঠোর লকডাউনে? লাগামহীন করোনার ভয়াবহতা! সোমবার থেকে কঠোর লকডাউন, মাঠে থাকবে সেনাবাহিনী। দেশের শীর্ষ পর্যটনকেন্দ্রের তালিকায় অপার সম্ভাবনার নাম সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা নতুন সাতটি প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর সম্পূর্ণ করলো শ্রেষ্ঠ ডট কম রাণীনগরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে একই পরিবারের তিন জনকে অপহরণ নাটোক!




দারিদ্র্যের কষাঘাতে অনিশ্চিত শিক্ষা জীবন! অদম্য মেধাবী টুম্পা এখন হোটেলের কর্মচারী

Reporter Name / ২০৯ Time View
Update : বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২০




দীনহীন পরিবারে জন্ম নেয়া মেধাবী কলেজছাত্রী টুম্পা খাতুনের (১৮) দুচোখ ভরা স্বপ্ন ছিলো লেখাপড়া শিখে বিসিএস ক্যাডার হবে। কিন্তু এসএসসি ও জেএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া টুম্পার সে স্বপ্ন স্থান করে দিয়েছে একমাত্র উপার্জনক্ষম ভ্যানচালক বাবাসহ পরিবারের চার সদস্যের অসুস্থতা। বর্তমানে অর্থাভাবে লেখাপড়া বন্ধতো হয়েছেই, উল্টো পরিবারের ৬ সদস্যের আহার ও অসুস্থদের চিকিৎসা খরচ যোগাতে বাধ্য হয়ে নারীর জন্য ব্যাতিক্রমী পেশা হোটেল বয়ের কাজ বেছে নিতে হয়েছে তাকে। টুম্পা নাটোরের বড়াইগ্রামের দোগাছি গ্রামের আব্দুর রাহিমের মেয়ে।

বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তরুণী টুম্পা বোরখার উপরে শরীরে এ্যাপ্রোন জড়িয়ে কয়েন বাজারের মহসিন আলমের মালিকানাধীন মাসুম বিল্লাহ হোটেলে কর্মচারীর কাজ করছে। ক্রেতারা আসলে তাদেরকে রুটি, পরোটা, ভাত-তরকারী খেতে দিচ্ছে। তিন বেলা খাবার আর মাসে সাড়ে চার হাজার টাকা বেতনে সকাল দশটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত আট ঘন্টা কাজ করছে সে।

জানা যায়, ২০১৯ সালের এসএসসি পরীক্ষায় টুম্পা পাচঁবাড়িয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ সহ স্কলারশিপ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। বর্তমানে সে ধানাইদহ খলিশাডাঙ্গা ডিগ্রী কলেজের ইন্টারমিডিয়েটের ছাত্রী। কিন্তু জীবিকার প্রয়োজনে হোটেল কর্মচারী হিসাবে কাজ করতে গিয়ে তার লেখাপড়া বন্ধের পথে।

সে জানায়, সংসারে আয়ের একমাত্র অবলম্বন তার পিতা আব্দুর রাহিম কয়েক বছর যাবৎ জটিল রোগে আক্রান্ত। এছাড়া তার দাদী জমেলা বেগম (৭২), মা তহমিনা খাতুন এবং চার মাস বয়সের একমাত্র ছোট ভাইটিও অসুস্থ। তার উপর কিস্তি পরিশোধের জন্য মরার উপর খাড়ার ঘায়ের মত চেপে বসেছে সুদি মহাজনেরা। তাই পরিবারের বড় সন্তান হিসাবে পরিস্থিতি সামাল দিতে লেখাপড়ার স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে সে এখন হোটেল বয়ের কাজ করছে।

সচরাচর এ পেশায় মেয়েরা না আসলেও বাঁচার তাগিদে বাধ্য হয়েই এ কাজ করছে বলে জানায় টুম্পা। তবে সুযোগ পেলে লেখাপড়াটাকে আঁকড়ে ধরেই বড় হতে চায় সে। কিন্তু সে স্বপ্ন আদৌ পূরণ হবে কিনা তা জানা নেই তার।
মেধাবী টুম্পা অশ্রু ছল ছল চোখে জানায়, ছোট বেলা থেকেই অনেক কষ্ট করে লেখাপড়া করে এতোদুর এসেছি। স্বপ্ন ছিলো লেখাপড়া শিখে বিসিএস ক্যাডার হবো। কিন্তু বাবা-মাসহ স্বজনদের আহার আর চিকিৎসার খরচ জোটাতে আয়ের পথ খুঁজতে হয়েছে। তাই বেমানান ও কষ্টকর হলেও হোটেলে কর্মচারীর কাজ করেই আপাতত পরিবারের হাল ধরার চেষ্টা করছি।

নগর ইউপি চেয়ারম্যান নীলুফার ইয়াসমিন ডালু জানান, বিষয়টি আমার জানা ছিলো না। তবে এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে তাদেরকে যতটুকু সম্ভব সহযোগিতার চেষ্টা করবো।





আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category




side bottom