শুক্রবার, ০৭ মে ২০২১, ০৬:৪০ অপরাহ্ন




পাইকগাছায় আওয়ামীলীগ দলীয় দ্বন্দ প্রকাশ্য

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি \
  • Update Time : বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ১৩২ Time View

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছায় উপজেলার গড়ইখালীতে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের পৃথক সভার আহবানকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের ১৪৪ ধারা জারী। এ প্রেক্ষিতে হঠাৎ করে দলীয় রাজনীতি সরব হয়ে উঠেছে। এ নিয়ে গত ক’দিন ধরে আলোচনা-সমালোচনা সহ এলাকায় এক ধরনের ধ্রুমজাল সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা উপজেলা পরিষদের উপ-নির্বাচনে প্রার্থীতা এমনকি আগামী সংসদ ও ইউপি নির্বাচনের টার্গেট ও আওয়ামীলীগের ইউনিয়ন ও উপজেলা কমিটি গঠন, সর্বোপরী নেতৃত্ব-কর্তৃত্ব-নিয়ে এক ধরনের চালেঞ্জ হিসেবে পরীক্ষা মূলক ভাবে এ সভাটি ডাকা হতে পারে। কিন্ত প্রশাসনের ১৪৪ ধারা প্রয়োগের ঘটনায় আরোও মতপার্থক্য দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা বিরাজ করছে। এ নিয়ে পাইকগাছায় আওয়ামী দলীয় রাজণীতি ক্রন্দল প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। সবার সাথে সমন্বয় করে মিটিং ডাকলে কারোর বিরোধীতা করার সুযোগ থাকতো না এমন তৃণমূল নেতাকর্মীদের মন্তব। উপজেলার সভাপতি, সহ-সভাপতি ও যুগ্ম সম্পাদককে এড়িয়ে মতবিনিয় সভা ডাকার ঘটনা আয়োজকদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের প্রস্তুতি ছাড়া ও উপজেলা কমিটির পাশ কাটিয়ে অ-গঠনতান্ত্রিক উপায়ে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম আয়ুব আলী এ সভাটি ডেকে দলীয় রাজনীতিতে দ্বন্ডের সৃষ্টি করেছেন।

তৃণমূল নেতা-কর্মীরা এর পক্ষে-বিপক্ষে লক্ষ্য করা গেলেও একটি পক্ষ তদন্ত দাবী করে এর পিছনে জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক পদক্ষেপ ও বহিস্কারের দাবী তুলেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেক দলীয় নেতা-কর্মীরা জানান, দল দীর্ঘদিন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকার ফলে দলে লোক বেড়েছে, কিন্তু সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে তারা জানান, দলীয় সাবেক এমপি এ্যাডভোকেট সোহরাব আলী সানা ও সাবেক এমপি সদ্য প্রয়াত এ্যাডভোকেট নূরুল হকের সময়ে দলের একাংশের নেতা-কর্মীরা বিপরীত মেরুতে থেকে বিরোধীতা করেছিলেন। এখনও দেখছি তারাই আবার মোঃ আক্তারুজ্জামান বাবু বর্তমান এমপি’র সময়ও বিরোধীতার সংস্কৃতি চালু রাখার চেষ্টা করছেন। এতে দলের ইমেজ নষ্ট হচ্ছে এবং সরকারের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। তবে চেইন অব কমান্ড মেনে ৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবারের সভাটিতে সবাইকে ডাকা উচিত ছিল। ইউনিয়ন আ’লীগের তথ্য ও প্রকাশনা সম্পাদক আঃ সাত্তার গাজী, প্রচার সম্পাদক এসএম আজিজুর রহমান, গড়ইখালী ১ওয়ার্ড সভাপতি কুদ্দুস সরদার সহ পদ-পদবীধারী অনেক নেতারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে দুঃসময় থেকে এ পর্যন্ত দলীয় কর্মকান্ড পরিচালনা করে আসছি, কিন্তু শুক্রবার দলের ব্যানার ব্যবহার করে ইউনিয়ন কমিটির সম্পাদক এসএম আয়ুব আলী মতবিনিয় সভা ডাকলেও অনেক নেতাদের জানানো হয়নি। এর ফলে নেতা-কর্মীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

আয়ুব আলীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক পদক্ষেপ ও বহিস্কারের দাবী করে এসব নেতারা অভিযোগ করেন সভায় কয়রার উপজেলা চেয়ারম্যান বহিস্কৃত নেতাকে ডাকা হয়েছে অথচ আমরা ঐ সভা সম্পর্কে কিছুই জানিনা। এ অভিযোগ প্রসঙ্গে গড়ইখালী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম আয়ুব আলী সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে বলেন, শুক্রবারের প্রোগ্রামটি আমার দেওয়া না। মতবিনিময় সভাটি মূলত উপজেলা অওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ কামরুল হাসান টিপু’র পরামর্শে ডাকা হয়। তিনি ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি-সম্পাদকদের সাথে মতবিনিয় করার কথা জানালে এ সভার আহবান করা হয়। কিন্তু জেলার সভাপতি-সম্পাদক বা উপজেলা কমিটির সভাপতি সহ-সভাপতি বা যুগ্ম সম্পাদক অবহিত ছিল কিনা এ সম্পর্কে তিনি বলেন, না কাউকে আমি জানায়নি এবং এটা আমার দায়িত্ব ছিলনা বলে মন্তব্য করেন। এ বিষয়ে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার ইকবাল ম›ন্টু এ সভা সম্পর্কে রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহিঃভুত মন্তব্য করে জানান, চেইন অব কমান্ড অনুসরন না করে আমাকে ও সহ-সভাপতি সমীরন সাধু ও যুগ্ম সম্পাদক আনন্দ মোহন বিশ্বাসকে কোনো রকম জ্ঞাত না করে ইচ্ছামত প্রোগ্রাম ডেকে দলের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টিতে উৎসাহ যুগিয়েছেন।

‘এ টু জেড সংবাদ ’




More News Of This Category
© All rights reserved © 2020 Atozithost
Design & Developed by: ATOZ IT HOST
Tuhin