• বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৬:৩৫ পূর্বাহ্ন
Headline
সমাজ উন্নয়নে অংশীদারীত্ব হয়ে কাজ করে যাচ্ছেন সাবেক ছাত্রনেতা ফয়সাল এখনই উঠছে না লকডাউন। বাড়ছে বিধিনিষেধ। সিদ্ধান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয়ের। শ্রীপুরে রাস্তা পার হতে গিয়ে কাভার্ড ভ্যান চাপায় স্বামী-স্ত্রী নিহত কঠোর লকডাউন কতোটা ফলপ্রসূ? সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ। করোনায় স্বাস্থ্যবিধি মানতে নড়াইলে মাশরাফির ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ কি কি থাকছে সাত দিনের কঠোর লকডাউনে? লাগামহীন করোনার ভয়াবহতা! সোমবার থেকে কঠোর লকডাউন, মাঠে থাকবে সেনাবাহিনী। দেশের শীর্ষ পর্যটনকেন্দ্রের তালিকায় অপার সম্ভাবনার নাম সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা নতুন সাতটি প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর সম্পূর্ণ করলো শ্রেষ্ঠ ডট কম রাণীনগরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে একই পরিবারের তিন জনকে অপহরণ নাটোক!




প্রবাস জীবনের কষ্টার্জিত অর্থ-সম্পদ ফিরে পেতে আমরণ অনশন!

Reporter Name / ১৪৩ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০১৯




কুমিল্লার দেবীদ্বারে বড় ভাই মীর্জা তাজুল ইসলাম কর্তৃক জায়গা-বাড়ী কেনার আশ্বাসে দীর্ঘ ২৭ বছর প্রবাস জীবনের কষ্টার্জিত অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে ওই অর্থ ফিরে পেতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আমরণ অনশনে নেমেছেন ছোট ভাই ভাই মির্জা আমিনুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় দেবীদ্বার পৌর এলাকার বারেরা ফুলগাছ তলায় বড় ভাই মীর্জা তাজুল ইসলামের নিজস্ব ভবন ‘মীর্জা আব্দুল করীম ম্যানশন’র সামনে ওই আমরণ অনশনে বসেন।

সংবাদ পেয়ে দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিব হাসান বেলা পৌনে ৩টায় ঘটনাস্থলে যেয়ে বিষয়টি সামাজিকভাবে মিমাংশা করার আশ্বাসে অনশন ভঙ্গ করেন। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন,- সাবেক অতিরিক্ত সচিব, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের মহা পরিচালক এ,কে,এম খায়রুল আলম সহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তি ও গনমাধ্যম কর্মীরা।

ভুক্তভোগী মির্জা আমিনুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি নিয়ে একাধিক গ্রামীণ সালিস এবং মানবিক সহযোগিতা চেয়ে গত দুই বছরে স্থানীয় সংসদ সদস্য, থানা পুলিশ, পুলিশ সুপারের দপ্তরে ঘুরেও একাধিক লিখিত অভিযোগ করার পরও কোন সুরাহা হয়নি। পারিবারিক ভাবে আত্মীয়-স্বজন ও গন্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে গত বছরের ৩ ডিসেম্বর ১০০ টাকার তিনটি লিখিত ষ্ট্যাম্পে পাওনা পরিশোধের আশ^াসদানে স্বাক্ষর করেন বড় ভাই মির্জা তাজুল ইসলাম। স্বাক্ষরের এক বছর পার হলেও কোন টাকা-পয়সা বা জায়গা-জমি বুজিয়ে না দিয়ে উল্টো বিষয়টি কাউকে জানালে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে আসছেন। প্রবাস জীবনের সব সহায় সম্বল হারিয়ে তা ফিরে পাওয়ার আশায় স্ত্রী ও চার মেয়ে নিয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি কিন্তু কোন প্রতিকার পাইনি। তাই অনশনে নামতে বাধ্য হয়েছি।

অপর দিকে অভিযুক্ত মীর্জা তাজুল ইসলাম বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সবই মিথ্যা, বানোয়াট এবং উদ্দেশ্য প্রনোদীত। আমরা ৪ ভাই, ৩ বোন। আমি ৭৯ সালে কুয়েত প্রবাসে থাকা অবস্থায় পিতা- মাতা, ভাই, বোন সবারই ভরন পোষন চালিয়েছি। ১৯৯০ সালে আমার ভগ্নীপতি নূরুল ইসলাম খান’র মাধ্যমে ৯০ হাজার টাকা খরচ করে আমিনুলকে সৌদী আরব পাঠাই। আর্থিক লেন-দেন যা করেছে তা সবই আমার ভগ্নীপতি নূরুল ইসলাম’র সাথে করেছে। বিদেশ পাঠাতে আমি যে ৯০ হজার টাকা দিয়েছি ওই টাকার মধ্যে আমার ভগ্নীপতি নূরুল ইসলাম’র মাধ্যমে ১৯৯৪ সালে ৭৮ হাজার টাকা পেয়েছি, এখনো ১২ হাজার টাকা পাই। উল্টো আমার ভাই মির্জা আমিনুল ইসলাম আমার বাবার মৃত্যুর পর মা ও ৭ ভাই বোন জীবীত থাকা অবস্থায় সবাইকে মৃত দেখিয়ে আমার টাকায় কেনা ও বাবার সম্পত্তি সহ ৭০ শতাংশ জমি নিজ নামে খতিয়ান করিয়ে নেয়। বিষয়টি জানার পর এ্যাসিল্যান্ড অফিসে অভিযোগ করলে ওই খতিয়ান বাতিল হয়ে যায়। এরই মধ্যে আমিনুল ১৫ শতাংশ জমি বিক্রয় এবং বাকী সম্পত্তি নিজ স্ত্রী ও কণ্যাদের নামে লিখে দেয়। তার এসব কর্মকান্ডে আমার ভাই, বোন আত্মীয় স্বজন ক্ষুব্ধ হলেও তাকে কোনভাবে অপপ্রচার থেকে রোধ করতে পারছেনা। বিদেশ থাকাকালিন যে বোনের সাথে লেন দেন করেছে সে বোন ঢাকা সাভারে একটি বাড়ি ও একটি ফ্লাট বাড়ি কিনে দিয়েছে। সে বর্তমানে কোটিপতি হয়েও নিঃস্ব দাবী করে প্রশাসন ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিদের বিভ্রান্ত করছে।

অপর ভাই মীর্জা সাদেকুল ইসলাম বলেন, আমাদের পৈত্রিক ভিটে-মাটি এবং সামান্য কিছু জমি ছিল। বড় ভাই বিদেশ থাকা অবস্থায় কিছু জমি ক্রয় করেন। যা বাবার নামে এবং বড় ভাইয়ের নামে ছিল। বড় ভাই দেশে এসে ওনার টাকায় ক্রয়কৃত জমি এবং পৈতিক জমি সহ সকল সম্পত্তি পিতার নামে খতিয়ান করিয়ে নেন, যাতে ভাই বোন সমহারে সম্পত্তি ভোগ করতে পারেন। আমিনুল ভাই বড় ভাই তাজুল ইসলাম’র বিরুদ্ধে যে অভিযোগ এনেছেন তা সত্য না।

আর এক ভাই সামসুল হক বলেন, পরিবারের সদস্য সহ আত্মীয় স্বজন ও এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তিদের নিয়ে সালিসে নন জুডিশিয়াল ষ্ট্যাম্পে উভয় পক্ষের স্বাক্ষর রেখে কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, যে ষ্ট্যাম্পগুলো আমার মামার নিকট রক্ষিত ছিল, মামা ওই ষ্ট্যাম্পগুলো এক সময় খুঁজে না পাওয়ায় থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করেন। পরবর্তীতে জানা যায় ওই ষ্ট্যাম্প আমিনুল চুরি করে নিয়ে যায় এবং মনগড়া কিছু সিদ্ধান্ত লিখে নোটারী পাবলিক কার্যালয়ে দলিল করে নেয়। যাতে কোন স্বাক্ষীর স্বাক্ষরও নেই।

দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিব হাসান বলেন, যেহেতু বিষয়টি পারিবারিক এবং স্পর্শকাতর, এটি এখন বাড়াবাড়িতে চলে যাচ্ছে। তাই পারিবারিক ও সামাজিক ভাবে সমাধান জরুরী, খুব শীঘ্রই বিষয়টি উভয়পক্ষকে সমাধানের আহবান জানিয়েছি।





আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category




side bottom