শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর ২০২০, ০২:৪৯ অপরাহ্ন
Title :
রাণীনগরে নারী উন্নয়ন ও ক্ষমতায়ন বিষয়ক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত রাণীনগরে নিখোঁজের চার দিনের মাথায় পুকুর থেকে বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার রাণীনগর উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি পেলেন “নৌকা” সম্পাদক নিলেন “মটরসাইকেল”প্রতিক নড়াইলে মাশরাফির পক্ষ থেকে আশরাফুজ্জামান মুকুলের নেতৃত্বে বিশাল শোডাউন রিয়েলিটি শো “বাংলার গায়েন” ১০০ জন প্রতিযোগীতার মধ্যে অবস্থান করে নিয়েছেন নওগাঁর মেয়ে নূসরাত মাহী। রাণীনগর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে উপ-নির্বাচনের ধুম শুরু তরুন যুবনেতা আলভির শুভেচ্ছা ব্যানারে রঙ নিক্ষেপের অভিযোগ রাণীনগরে ৫ বছরের শিশুকে যৌন নিপীরনের অভিযোগে থানায় মামলা পারিবারিক কবরস্থান জিয়ারত করলেন সদ্য নির্বাচিত এমপি হেলাল নওগাঁ-৬,আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আনোয়ার হোসেন হেলাল নির্বাচিত




প্রিয় শিক্ষক

Reporter Name
  • আপডেট টাইম: মঙ্গলবার, ৩০ অক্টোবর, ২০১৮

আমরা জানি, একজন মানুষের সফলতার পেছনে শিক্ষকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন আদর্শ শিক্ষক কেবলমাত্র পড়াশোনার ক্ষেত্রে নয়, তিনি ছাত্রকে জীবনে চলার পথে পরামর্শ দেবেন, ব্যর্থতায় পাশে দাঁড়িয়ে উৎসাহ দেবেন, সাফল্যের দিনে নতুন লক্ষ্য স্থির করে দেবেন।

অ্যারিস্টটল বলেছেন- ‘যাঁরা শিশুদের শিক্ষাদানে ব্রতী তাঁরা অবিভাবকদের থেকেও অধিক সম্মানীয়।পিতামাতা আমাদের জীবনদান করেন ঠিকই। শিক্ষকরা সেই জীবনকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে সাহায্য করেন।’
আমার জীবনেও এমন একজন শিক্ষক আছেন যিনি আমাকে ছোটবেলায় পড়ালেখায় খুব উৎসাহ দিয়েছেন,পাল্টে দিয়েছেন আমার জীবনের গতিপথ। হয়ে উঠেছেন আমার প্রেরণা, তিনি আমার প্রিয় শিক্ষক।

আমি যখন প্রিয় শিক্ষক নিয়ে কিছু লেখার সুযোগ পাই তখনই চোখ বন্ধ করলাম, মায়ের পর ভেসে আসে একটা হাসি মুখ। যেখানে জড়িয়ে আছে আদর, মায়া-ভালবাসা আর শ্রদ্ধা। অনেক প্রিয় শিক্ষকের মাঝে একজন একটু বেশিই প্রিয়, সেই ছোটবেলা, যাকে নিয়ে রচনা লিখতাম “আমার প্রিয় শিক্ষক”।তিনি হলেন তারাব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা পিয়ারা বেগম ম্যাডাম। তিনি একজন শৌখিন লেখক। আমার মায়ের মতো একজন মানুষ।যিনি আমাকে ছোটবেলায় পড়ালেখায় খুব উৎসাহ দিতেন।

আমি যখন তৃতীয় শ্রেণিতে তারাব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হই তখন সবাই বলতো পিয়ারা ম্যাডাম খুব রাগী।কিন্তু ম্যাডাম খুব ভালো মনের একজন মানুষ।যখন চতুর্থ শ্রেণিতে উঠলাম তখন ম্যাডামের ক্লাস পেলাম।ম্যাডাম তখন বাংলা লেখা খারাপ হলে এক পৃষ্ঠা করে বাংলা লেখা বাড়ির কাজ দিত।আমার লেখা তখন খুব খারাপ ছিলো।ম্যাডামের একদিন চোখে পড়ল আমার লেখা খুব খারাপ, এরপর ম্যাডাম আমাকে অক্ষরগুলো সঠিকভাবে লিখতে সাহায্য করেছিলেন।এরপর আস্তে আস্তে আমার লেখা ঠিক হলো।ম্যাডাম আমাদের সবাইকে খুব ভালোবাসতেন,মাতৃস্নেহে পড়াতেন।সবাই খুব মজা করেই ম্যাডামের পড়াগুলো শিখে আসতাম।

দেখতে দেখতে চতুর্থ শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে উঠলাম।ম্যাডামেরও বাংলা ক্লাস পেলাম।পিএসসি পরীক্ষার জন্য ম্যাডাম আমাদের সবার থেকে খুব কঠোরভাবে পড়া আদায় করতেন।আমি তখন পড়ালেখায় খুব অমনোযোগী ছিলাম।ক্লাসে পড়া নিয়মিত দিতে পারতাম না।আমাদের সময় বাংলা বইতে ‘তুলনা’ নামে একটা কবিতা ছিল।ম্যাডাম আমাদের সবাইকে তুলনা কবিতাটি পড়া দিয়েছিলেন।পরেরদিন যথারীতি ম্যাডাম সবার পড়া ধরেছিলেন,আমারও পড়া ধরেছিলেন।কিন্তু আমি সেদিন পড়া দিতে পারি নি।এরপর থেকে ম্যাডাম আমার প্রায় প্রতিদিনই পড়া ধরতেন।কোনোদিন পারতাম,কোনোদিন পারতাম না।ম্যাডাম আমাকে তখন অনেক বুঝাতেন।তিনি আমাকে বারবার বলতেন “লক্ষ্য স্থির করো এবং তোমার লক্ষ্য সফল করতে তুমি এখন থেকেই প্রস্তুতি নাও।”তিনি আরো বলতেন,”সে-ই সবচেয়ে বড় নিবোর্ধ, যে জীবনে বড় হতে কিন্তু সে অনুযায়ী কাজ করে না”

ম্যাডামের এ কথাটা আমার এখনও মনে পড়ে। আমি যখনই কোনো কাজে হাল ছেড়ে দেই তখনই ম্যাডামের কথাগুলো মনে পড়ে। আর তখনই আমার চেষ্টা আরো বেড়ে যায়।আমার জীবনে চলার পথে যেসব সাফল্য পেয়েছি এতে ম্যাডামের অনেক ভূমিকা রয়েছে।

এখন ম্যাডামের সাথে কাটানো দিনগুলো খুব মনে পড়ে। ইচ্ছে করে ঠিক আগের সময়গুলোতে ফিরে যাই,দুই কাঁধে ব্যাগ নিয়ে ছুটে যাই সেই বিদ্যালয়ে।







এ জাতীয় আরো খবর..




FOLLOW US

ই-মেইল: ‍atozsangbad@gmail.com
ফেইসবুক
ইউটিউব

পুরাতন খবর

sidebar middole




side bottom




© All rights reserved © atozsangbad.com
Design & Developed by: ATOZ IT HOST
Tuhin
x