• বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:১৮ পূর্বাহ্ন
Headline
সমাজ উন্নয়নে অংশীদারীত্ব হয়ে কাজ করে যাচ্ছেন সাবেক ছাত্রনেতা ফয়সাল এখনই উঠছে না লকডাউন। বাড়ছে বিধিনিষেধ। সিদ্ধান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয়ের। শ্রীপুরে রাস্তা পার হতে গিয়ে কাভার্ড ভ্যান চাপায় স্বামী-স্ত্রী নিহত কঠোর লকডাউন কতোটা ফলপ্রসূ? সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ। করোনায় স্বাস্থ্যবিধি মানতে নড়াইলে মাশরাফির ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ কি কি থাকছে সাত দিনের কঠোর লকডাউনে? লাগামহীন করোনার ভয়াবহতা! সোমবার থেকে কঠোর লকডাউন, মাঠে থাকবে সেনাবাহিনী। দেশের শীর্ষ পর্যটনকেন্দ্রের তালিকায় অপার সম্ভাবনার নাম সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা নতুন সাতটি প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর সম্পূর্ণ করলো শ্রেষ্ঠ ডট কম রাণীনগরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে একই পরিবারের তিন জনকে অপহরণ নাটোক!




প্রিয় শিক্ষক

Reporter Name / ৯৫৬ Time View
Update : মঙ্গলবার, ৩০ অক্টোবর, ২০১৮




আমরা জানি, একজন মানুষের সফলতার পেছনে শিক্ষকের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন আদর্শ শিক্ষক কেবলমাত্র পড়াশোনার ক্ষেত্রে নয়, তিনি ছাত্রকে জীবনে চলার পথে পরামর্শ দেবেন, ব্যর্থতায় পাশে দাঁড়িয়ে উৎসাহ দেবেন, সাফল্যের দিনে নতুন লক্ষ্য স্থির করে দেবেন।

অ্যারিস্টটল বলেছেন- ‘যাঁরা শিশুদের শিক্ষাদানে ব্রতী তাঁরা অবিভাবকদের থেকেও অধিক সম্মানীয়।পিতামাতা আমাদের জীবনদান করেন ঠিকই। শিক্ষকরা সেই জীবনকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে সাহায্য করেন।’
আমার জীবনেও এমন একজন শিক্ষক আছেন যিনি আমাকে ছোটবেলায় পড়ালেখায় খুব উৎসাহ দিয়েছেন,পাল্টে দিয়েছেন আমার জীবনের গতিপথ। হয়ে উঠেছেন আমার প্রেরণা, তিনি আমার প্রিয় শিক্ষক।

আমি যখন প্রিয় শিক্ষক নিয়ে কিছু লেখার সুযোগ পাই তখনই চোখ বন্ধ করলাম, মায়ের পর ভেসে আসে একটা হাসি মুখ। যেখানে জড়িয়ে আছে আদর, মায়া-ভালবাসা আর শ্রদ্ধা। অনেক প্রিয় শিক্ষকের মাঝে একজন একটু বেশিই প্রিয়, সেই ছোটবেলা, যাকে নিয়ে রচনা লিখতাম “আমার প্রিয় শিক্ষক”।তিনি হলেন তারাব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা পিয়ারা বেগম ম্যাডাম। তিনি একজন শৌখিন লেখক। আমার মায়ের মতো একজন মানুষ।যিনি আমাকে ছোটবেলায় পড়ালেখায় খুব উৎসাহ দিতেন।

আমি যখন তৃতীয় শ্রেণিতে তারাব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হই তখন সবাই বলতো পিয়ারা ম্যাডাম খুব রাগী।কিন্তু ম্যাডাম খুব ভালো মনের একজন মানুষ।যখন চতুর্থ শ্রেণিতে উঠলাম তখন ম্যাডামের ক্লাস পেলাম।ম্যাডাম তখন বাংলা লেখা খারাপ হলে এক পৃষ্ঠা করে বাংলা লেখা বাড়ির কাজ দিত।আমার লেখা তখন খুব খারাপ ছিলো।ম্যাডামের একদিন চোখে পড়ল আমার লেখা খুব খারাপ, এরপর ম্যাডাম আমাকে অক্ষরগুলো সঠিকভাবে লিখতে সাহায্য করেছিলেন।এরপর আস্তে আস্তে আমার লেখা ঠিক হলো।ম্যাডাম আমাদের সবাইকে খুব ভালোবাসতেন,মাতৃস্নেহে পড়াতেন।সবাই খুব মজা করেই ম্যাডামের পড়াগুলো শিখে আসতাম।

দেখতে দেখতে চতুর্থ শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে উঠলাম।ম্যাডামেরও বাংলা ক্লাস পেলাম।পিএসসি পরীক্ষার জন্য ম্যাডাম আমাদের সবার থেকে খুব কঠোরভাবে পড়া আদায় করতেন।আমি তখন পড়ালেখায় খুব অমনোযোগী ছিলাম।ক্লাসে পড়া নিয়মিত দিতে পারতাম না।আমাদের সময় বাংলা বইতে ‘তুলনা’ নামে একটা কবিতা ছিল।ম্যাডাম আমাদের সবাইকে তুলনা কবিতাটি পড়া দিয়েছিলেন।পরেরদিন যথারীতি ম্যাডাম সবার পড়া ধরেছিলেন,আমারও পড়া ধরেছিলেন।কিন্তু আমি সেদিন পড়া দিতে পারি নি।এরপর থেকে ম্যাডাম আমার প্রায় প্রতিদিনই পড়া ধরতেন।কোনোদিন পারতাম,কোনোদিন পারতাম না।ম্যাডাম আমাকে তখন অনেক বুঝাতেন।তিনি আমাকে বারবার বলতেন “লক্ষ্য স্থির করো এবং তোমার লক্ষ্য সফল করতে তুমি এখন থেকেই প্রস্তুতি নাও।”তিনি আরো বলতেন,”সে-ই সবচেয়ে বড় নিবোর্ধ, যে জীবনে বড় হতে কিন্তু সে অনুযায়ী কাজ করে না”

ম্যাডামের এ কথাটা আমার এখনও মনে পড়ে। আমি যখনই কোনো কাজে হাল ছেড়ে দেই তখনই ম্যাডামের কথাগুলো মনে পড়ে। আর তখনই আমার চেষ্টা আরো বেড়ে যায়।আমার জীবনে চলার পথে যেসব সাফল্য পেয়েছি এতে ম্যাডামের অনেক ভূমিকা রয়েছে।

এখন ম্যাডামের সাথে কাটানো দিনগুলো খুব মনে পড়ে। ইচ্ছে করে ঠিক আগের সময়গুলোতে ফিরে যাই,দুই কাঁধে ব্যাগ নিয়ে ছুটে যাই সেই বিদ্যালয়ে।





আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category




side bottom