• মঙ্গলবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৭:৩২ পূর্বাহ্ন
Headline
সমাজ উন্নয়নে অংশীদারীত্ব হয়ে কাজ করে যাচ্ছেন সাবেক ছাত্রনেতা ফয়সাল এখনই উঠছে না লকডাউন। বাড়ছে বিধিনিষেধ। সিদ্ধান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয়ের। শ্রীপুরে রাস্তা পার হতে গিয়ে কাভার্ড ভ্যান চাপায় স্বামী-স্ত্রী নিহত কঠোর লকডাউন কতোটা ফলপ্রসূ? সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ। করোনায় স্বাস্থ্যবিধি মানতে নড়াইলে মাশরাফির ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ কি কি থাকছে সাত দিনের কঠোর লকডাউনে? লাগামহীন করোনার ভয়াবহতা! সোমবার থেকে কঠোর লকডাউন, মাঠে থাকবে সেনাবাহিনী। দেশের শীর্ষ পর্যটনকেন্দ্রের তালিকায় অপার সম্ভাবনার নাম সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা নতুন সাতটি প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর সম্পূর্ণ করলো শ্রেষ্ঠ ডট কম রাণীনগরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে একই পরিবারের তিন জনকে অপহরণ নাটোক!




একজন বর্ষীয়ান ও সফল রাজনীতিবিদের সংক্ষিপ্ত জীবনী

Reporter Name / ৬১৬ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১৮ মার্চ, ২০২১




বাপ্পী খান, ঢাকা: কথায় বলে রাজনীতিতে শেষকথা বলে কিছু নেই। আর বাস্তব জীবনে তারই দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ

বাংলাদেশের রাজনীতির শীর্ষ কেন্দ্রে দীর্ঘ সময় ধরেই যে সকল রাজনীতিবিদ প্রভাব বিস্তার করেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ। বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ জনাব মওদুদ আহমেদ তার রাজনৈতিক জীবনে কখনো আলোচিত, কখনো আবার হয়েছেন সমালোচিত।

মওদুদ আহমেদ ১৯৪০ সালের ২৪শে মে নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। স্কুলে অধ্যায়নরত থাকাকালে বাংলা ভাষা আন্দোলনের মিছিলে যোগ দিয়ে তিনি প্রথম জেল খেটেছিলেন। এরপর ঢাকা কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক পড়াকালীন সময় কলেজের ছাত্র সংসদের আপ্যায়ন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি স্নাতক শেষ করে চলে যান লন্ডনে। সেখান থেকে ব্যারিস্টার ডিগ্রি অর্জন করে ৬০ এর দশকের মাঝামাঝি ফিরে আসেন দেশে। সে সময় ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছয় দফা ঘোষণা করলে তার সমর্থনে মাঠে নামেন ব্যারিস্টার মওদুদ।
১৯৭১ সালে তৎকালীন পাকিস্তানের শামরিক শাসক ইয়াহিয়া খানের ঢাকা গোল টেবিল বৈঠকে শেখ মুজিবের সাথেই ছিলেন মওদুদ আহমেদ। এছাড়াও মুক্তিযুদ্ধে সংগঠকদের অন্যতম একজন ছিলেন তিনি। প্রখ্যাত কবি জসিম উদ্দিনের জামাতা,জনাব মওদুদ আহমেদ কে বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর প্রথম পোস্ট মাস্টার জেনারেল নিয়োগ করা হয়।

বাংলাদেশ স্বাধীন হবার কিছুদিন পর শেখ মুজিবের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী সরকারের সাথে সম্পর্কের অবনতি হয় মওদুদের। সে সময় মওদুদ আওয়ামী লীগ সরকারের হাতে আটক রাজনীতিবিদদের জন্য আইনি লড়াই চালানো সহ মানবাধিকার নিয়ে কাজ করেছিলেন।

১৯৭৫ সালে পট পরিবর্তনের পর তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসেন। এবং জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালে মওদুদ আহমেদ কে উপদেষ্টা নিয়োগ করেছিলেন।
বি.এন.পি সরকার প্রতিষ্ঠার অন্যতম একজন ছিলেন ব্যারিস্টার মওদুদ। ১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারে উপ প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছিলেন মওদুদ আহমেদ। এর পরের বছর ১৯৮০ সালে জিয়াউর রহমান তাকে মন্ত্রীসভা থেকে অব্যহতি দিয়েছিলেন।

এরপর সামরিক শাসক জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সরকারে মওদুদ আহমেদ প্রথমে মন্ত্রী, পরে উপ প্রধানমন্ত্রী, এরপর প্রধানমন্ত্রী এবং শেষ পর্যন্ত ভাইস প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন। ১৯৮৯ সালে ভাইস প্রেসিডেন্ট হবার পর এরশাদ সরকারের পতনের সময় পর্যন্ত তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এরশাদ সরকারের পতনের পরও জাতীয় পার্টিতেই ছিলেন মওদুদ।
১৯৯৬ সালে সংসদ নির্বাচনে পরাজিত হবার পর বি.এন.পি তে ফেরেন মওদুদ। ২০০১-২০০৬ মেয়াদে বি.এন.পি- জামায়াত জোট সরকারের সময় আইনমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
ছয়বার সংসদ সদস্য হিসেবে বিজয়ী মওদুদ আহমেদ কয়েকটি বই ও লিখেছিলেন।

সর্বশেষ বি.এন.পি’র রাজনীতির সাথেই যুক্ত ছিলেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ। তিনি বি.এন.পি’র জাতীয় স্থায়ী কমিটির অন্যতম একজন সদস্য হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। পাশাপাশি আইন পেশায় ও তিনি একজন সফল আইনজীবী হিসেবে জীবনে প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারীর ১ তারিখে অসুস্থতাজনিত কারণে ঢাকা থেকে সিঙ্গাপুর নেয়া হয় ব্যারিস্টার মওদুদ কে। সেখানেই তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন।
গত ১৬ই মার্চ মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় সাড়ে ছয়টার দিকে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসাপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় জীবনের অধ্যায় শেষ করে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান বর্ষিয়ান সফল রাজনীতিবিদ ও আইনজীবী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ।

আজ ১৮ই মার্চ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় বাংলাদেশ বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইটে মওদুদ আহমেদ এর মরদেহ সিঙ্গাপুর থেকে দেশে পৌঁছালে বি.এন.পি’র সকল স্তরের নেতাকর্মীবৃন্দ তার লাশ গ্রহণ করতে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভীড় জমান।

সেখান থেকে তার লাশ গুলশানের নিজ বাসভবনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। রাতে এভারকেয়ার হাসপাতালের হিমঘরে তার লাশ রাখা হবে। আগামীকাল ১৯ই মার্চ শুক্রবার সকাল ৯টায় মওদুদ আহমেদ এর লাশ জাতীয় শহীদ মিনারে রাখা হবে সর্বস্তরের শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য।

সেখান থেকে সকাল ১০টায় জাতীয় হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে প্রথম জানাযা শেষে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হবে, সেখানে বেলা ১১টায় জানাযা শেষে হেলিকপ্টার যোগে তার লাশ নিয়ে যাওয়া হবে নিজ জন্মস্থান নোয়াখালীর কোম্পানিগঞ্জে।

সেখানে সবশেষে জানাযার পর ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ কে দাফন করা হবে পারিবারিক কবরস্থানে তার বাবা মায়ের সাথেই।

আর এরই সাথে পৃথিবী নামক গ্রহ থেকে চীর বিদায় নিয়ে অন্ধকার কবরে চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন বাংলাদেশের রাজনীতির অনেক আন্দোলন সংগ্রাম ও উত্থান পতনের সাথে জড়িত বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ ও আইনজীবী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ।





আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category




side bottom