• শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:০৩ পূর্বাহ্ন
Headline
সমাজ উন্নয়নে অংশীদারীত্ব হয়ে কাজ করে যাচ্ছেন সাবেক ছাত্রনেতা ফয়সাল এখনই উঠছে না লকডাউন। বাড়ছে বিধিনিষেধ। সিদ্ধান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয়ের। শ্রীপুরে রাস্তা পার হতে গিয়ে কাভার্ড ভ্যান চাপায় স্বামী-স্ত্রী নিহত কঠোর লকডাউন কতোটা ফলপ্রসূ? সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ। করোনায় স্বাস্থ্যবিধি মানতে নড়াইলে মাশরাফির ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ কি কি থাকছে সাত দিনের কঠোর লকডাউনে? লাগামহীন করোনার ভয়াবহতা! সোমবার থেকে কঠোর লকডাউন, মাঠে থাকবে সেনাবাহিনী। দেশের শীর্ষ পর্যটনকেন্দ্রের তালিকায় অপার সম্ভাবনার নাম সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা নতুন সাতটি প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর সম্পূর্ণ করলো শ্রেষ্ঠ ডট কম রাণীনগরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে একই পরিবারের তিন জনকে অপহরণ নাটোক!




মণিপুরি মুসলমানদের ইতিবৃত্ত বইয়ের আলোচনা !  

Reporter Name / ৯৪ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৯




মণিপুরি মুসলমানদের ইতিবৃত্ত বইটা গত ২০১৮ সনের প্রথম দিকে সংগ্রহ করে  রেখেছিলাম। কিন্তু নানা ব্যস্ততার কারণে গত এক/দুই বছরে বইটা আর পড়া হয়ে ওঠেনি। তাই গত কয়েক সপ্তাহে একরকম পণ করে প্রতিদিন কয়েক পৃষ্ঠা করে পড়েছি, অবশেষে পড়া শেষ হয়েছে। এত তথ্যবহুল এবং সুখপাঠ্য একটা বই হাতের কাছে থাকার পরও কত বিলম্ব করে পড়লাম তাই ভাবলাম একটা রিভিউ লিখে ফেলি! এর আগে এই বইটি লেখক সম্পর্কে আমরা জেনে রাখি।
বাংলাদেশের সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলাধীন আদমপুর ইউনিয়নের কান্দিগাঁও গ্রামে মরহুম মো. আব্দুস সহিদ এর ঔরসে ৩০ জুলাই ১৯৫২ সনে জন্মগ্রহণ করেন হাজী মোঃ আব্দুস সামাদ। কমার্স গ্র্যাজুয়েট আব্দুস সামাদ ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংক “সোনালী ব্যাংক লি:” এ যোগদান করেন। তিনি ২০১০ সালে সিনিয়র এক্সকিউটিভ অফিসার হিসাবে কর্মরত অবস্থায় অবসর, গ্রহণ করেন।বর্তমানে কান্দগাঁওস্থ নিজ আলয় ” পাঙাল নিবাস ‘ এ অবসর জীবনযাপন করছেন।  বাংলাদেশের মণিপুরি সমাজের একজন কবি ও সাহিত্যিক হিসাব পরিচিত লেখকের প্রথম প্রকাশিত বই – মণিপুরি মুসলমানদের ইতিবৃত্ত (ইতিহাস বই)।
মণিপুরি মুসলমানদের ইতিবৃত্ত ” গ্রন্থটি ইতিহাসভিত্তিক এবং
মণিপুরি মুসলমান (পাঙাল) সম্প্রদায়ের ইতিহাসের একটি পর্যায়ক্রমিক সারসংক্ষেপ।  প্রায় দুইশত বছর যাবত এদেশের মাটি ও মানুষের সাথে একাত্ন হয়ে বসবাস করে আসলেও বৃহত্তর বাঙালি জনগোষ্ঠীর কাছে, এমন কি আজকের মণিপুরি প্রজন্মের কাছেও মণিপুরি মুসলমানদের উজ্জ্বল অতীত ও পর্যায়ক্রমিক ইতিহাস অপরিচিতই থেকে গেছে। তাই পাঠক  মণিপুরি মুসলমান  জাতির উদ্ভবের ইতিহাস জানার ক্ষেত্রে,  মণিপুরি মুসলমান (পাঙাল) সম্প্রদায় সম্পর্কে ধারণা পেতে সাধারণ পাঠক ও গবেষকরা  এই গ্রন্থটি পাঠ করতে পারে।
লেখক হাজী মোঃ আব্দুস সামাদ, মণিপুরি মুসলমান বা পাঙাল জাতির সৃষ্টি বা আদিভূমি বর্তমান ভারতের সেভেন স্টার নামে পরিচিত অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত ‘মণিপুর’ রাজ্যের প্রায় চারশত বছরের ইতিহাসকে সংক্ষেপে উপস্থাপন করেছেন, যেখানে কোনো গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা এড়িয়ে যান নি। ফলে গ্রন্থটির আকার খুব একটা বড় হয়নি, যা দেখে সাধারণ পাঠকদের মধ্যে ভীতি সঞ্চার করে। বলে রাখা ভালো, বাংলাদেশের বাইরে মণিপুরে ও আসামে মণিপুরি মুসলমানদের নিয়ে বেশ কয়েকটি ইতিহাস গ্রন্থ ইংরেজিতে ও মণিপুরি ভাষায় প্রকাশিত হয়েছে যা এদেশের মানুষের নিকট দুর্লভ ও দুর্বোধ্য। তাই এদেশে মণিপুরি মুসলমানদের ব্যাপক ও বহুল তথ্যসমৃদ্ধ একটি গ্রন্থের প্রয়োজন অনেকদিনের। এদিক দিয়ে এ গ্রন্থটি একটি ব্যাতিক্রর্মী ও সময়োপযোগী।
মণিপুরি মুসলমানদের ইতিবৃত্ত গ্রন্থটিতে বৃহত্তর সিলেট তথা বাংলার পাঠানশক্তির উত্থান ও পতনের ইতিহাসের সাথে মণিপুরি মুসলমান জাতির উৎপত্তির ইতিহাস, বাঙাল থেকে পাঙাল জাতিসত্তার উদ্ভবের বিবরণসহ মণিপুরি জাতির ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং মণিপুরি মুসলমানদের সামাজিক কাঠামো ও আচার অনুষ্ঠানের চিত্র সুন্দরভাবে চিত্রিত করেছেন। মণিপুরে আগত আরব, আফগান, মোগলসহ সময় সময় আগত ছোট, বড় কাফেলার বিবরণ  বইটিতে সন্নিবেশিত করেছেন। তাছাড়াও ১৬০৬ সালে সিলেটের পাঠান শাসক খাজা উসমান কর্তৃক মণিপুর আক্রমণের নিমিত্বে সেনাধ্যক্ষ মোহাম্মদ সানীর নেতৃত্বে কাছাড়ে সৈন্য প্রেরণের বিস্তারিত বিবরণ উল্লেখ করেছেন।  তখনকার মনিপুরের রাজা খাগেম্বার সাথে এক সন্ধির ফলশ্রুতিতে মুসলিম জনগোষ্ঠীর মনিপুরে স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপনের চিত্র গ্রন্থটিতে সুন্দর আলোকপাত করেছেন৷
মণিপুরি মুসলিম পাঙালরা মণিপুরের অভ্যন্তর ছাড়াও বাংলাদেশের বৃহত্তর সিলেট এবং ভারতের কাছাড় ত্রিপুরা ও আসামে ব্যাপকভাবে বসবাস করে। তাদের বিস্তৃত বিবরণসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিচ্ছিন্নভাবে বসবাসরত মণিপুরি মুসলমান বিবরণ রয়েছে এ গ্রন্থটিতে।
১৮১৯ সালে মনিপুরের মার্জিং সিংহের শাসনামলে বার্মা সৈন্য কর্তৃক সাত বছরব্যাপী মণিপুর অাগ্রাসনের সময় আত্নরক্ষায় তাগিদে মণিপুরীরা মণিপুর ত্যাগ করে আসাম, ত্রিপুরা, নাগাল্যান্ড ও বাংলাদেশে আগমনের তথ্য সমৃদ্ধ কাহিনী বইটিতে উল্লেখ রয়েছে।
বাংলাদেশের বৃহত্তর সিলেট, ভারতের মণিপুর, আসাম ও ত্রিপুরার বসববাসরত মণিপুরি মুসলমাণদের বিবরণ এ গ্রন্থটিতে স্থান পেয়েছে, মণিপুরি মুসলমানদের স্মরণীয়, বরণীয় কয়েকজন প্রথিতযশা ব্যাক্তি ও ব্যক্তিত্বের জীবনালেখ্য। তা ছাড়াও আন্দোলন, সংগ্রামে মণিপুরি মুসলমানদের ভূমিকা যথা, মণিপুরে বার্মিজ দখলমুক্ত করণ, মণিপুরে ব্রিটিশ আগ্রাসন বিরোধী আন্দোলন, মণিপুরে নারী বিদ্রোহ, বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রামে মণিপুরি মুসলমানদের আবদান ইত্যাদি অন্তর্ভূক্ত রয়েছে।
আমি ব্যক্তিগতভাবে বইটার প্রতি আগ্রহী হওয়ার মূল কারণ ছিল মণিপুরি মুসলমানদের ইতিহাস সম্পর্কে জানা। লেখক হাজী মোঃ আব্দুস সামাদ আমার সেই আশা পূরণ করেছেন। তা ছাড়া আমি এই গ্রন্থের তথ্যের  উপর ভিত্তি করে মণিপুরি মুসলমানদের অনেক লেখালেখি করেছি সেই জন্য লেখক হাজী মোঃ আব্দুস সামাদকে আল্লাহ রব্বুল আলামিন উত্তম প্রতিদান দান করুক।
সব মিলিয়ে গ্রন্থটি আমার কাছে খুবই চমৎকার লেগেছে কারণ এই বইটির লেখক মণিপুরি মুসলমানদের আত্মপরিচয় তুলে ধরার পাশাপাশি মণিপুর ও মণিপুরের অন্যান্য জাতিসত্তার একটি সংক্ষিপ্ত পরিচয়ও তুলে ধরার প্রয়াস চালিয়েছে। গ্রন্থটি সাতটি অধ্যায়ের সন্নিবেশিত উল্লেখ করেছে যা, মনিপুরি মুসলমানদের ইতিহাসের সম্পদ এতে কোন সন্দেহ নেই।  তাই যারা এখনো বইটি পড়েননি, তারা অবশ্যই লেখক হাজী মোঃ আব্দুস সামাদ এর ‘মণিপুরি মুসলমানদের ইতিবৃত্ত ’ বইটি সংগ্রহ করে পড়ে ফেলুন।





আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category




side bottom