বৃহস্পতিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ০৫:১৫ অপরাহ্ন
Title :
রাণীনগরে সপ্তাহ ব্যাপী নারী উন্নয়ন ও ক্ষমতায়ন বিষয়ক আলোচনা সভা রাণীনগরে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদে ইউপি চেয়ারম্যানের সংবাদ সম্মেলন রাণীনগরে প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন বিষয়ক মত বিনিময় সভা গাইবান্ধায় নবাগত অফিসার ইনচার্জ-এর সাথে নিযাচা’র মতবিনিময় সভা রাণীনগরে নারী উন্নয়ন ও ক্ষমতায়ন বিষয়ক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত রাণীনগরে নিখোঁজের চার দিনের মাথায় পুকুর থেকে বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার রাণীনগর উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি পেলেন “নৌকা” সম্পাদক নিলেন “মটরসাইকেল”প্রতিক নড়াইলে মাশরাফির পক্ষ থেকে আশরাফুজ্জামান মুকুলের নেতৃত্বে বিশাল শোডাউন রিয়েলিটি শো “বাংলার গায়েন” ১০০ জন প্রতিযোগীতার মধ্যে অবস্থান করে নিয়েছেন নওগাঁর মেয়ে নূসরাত মাহী। রাণীনগর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে উপ-নির্বাচনের ধুম শুরু




শ্রীপুরে জমি বিক্রি করে দখলচেষ্টা করছে জাতীয় পার্টির সভাপতি আফতাব

Reporter Name
  • আপডেট টাইম: মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২০

গাজীপুর জেলার শ্রীপুর পৌর এলাকার শ্রীপুর গ্রামের মৃত আজিম উদ্দিন মোল্লার সন্তান ও জাতীয় পার্টির শ্রীপুর উপজেলা সভাপতি আফতাব উদ্দিনের (৬৫) নামে অবৈধভাবে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে।

এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী সৌদি প্রবাসী শ্রীপুর উপজেলার বাউনি গ্রামের মৃত লাল মিয়ার সন্তান আব্দুর রশীদ (৬০) এর পক্ষে একই গ্রামের মৃত হাফিজ উদ্দিনের সন্তান আব্দুল্লাহ আল মামুন (৪৫) শ্রীপুর মডেল থানায় [২০ এপ্রিল ২০২০] তারিখে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা করেছেন।

ওই অভিযোগে মূল অভিযুক্ত জাতীয় পার্টির শ্রীপুর উপজেলা সভাপতি আফতাব উদ্দিনসহ অচেনা ৮-১০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তের বাড়ির পাশ থেকে শ্রীপুর মৌজায় [২৪ এপ্রিল ২০০৬] তারিখে ৩৪৮৭ নম্বর দলিল মূলে সাড়ে ৩ শতাংশ এবং [৩১ জানুয়ারি ২০০২] তারিখে ১১৯৩ নম্বর দলিল মূলে সাড়ে ১০ শতাংশ জমি ভুক্তভোগী আব্দুর রশীদের কাছে বিক্রি করে। পরে আব্দুর রশীদ আমুক্তা নামা দলিল মূলে আব্দুল্লাহ আল মামুনের নিকট হস্তান্তর করে। এরপর থেকে মামুন ওই জমি দেখাশোনা করে আসছেন।

অভিযোগ সূত্রে আরও জানা যায়, অবৈধভাবে দখলের উদ্দেশ্যে উল্লেখিত জমি থেকে ৩ গন্ডা জমিতে [২০ এপ্রিল ২০২০] সকাল ১০ টায় অস্থায়ী ঘর নির্মাণ করে অভিযুক্তরা।

প্রবাসী আব্দুর রশীদের ক্রয়কৃত জমি বর্তমানে আব্দুল্লাহ আল মামুন দেখাশোনা করছেন। তিনি জানিয়েছেন, আমি প্রবাসী আব্দুর রশীদের জমি দেখাশোনা করছি। ইদানীং ওই জমিতে ঘর করতে গেলে তারা বাঁধা দিয়ে অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত হাজী আফতাব উদ্দিনের কাছে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি নির্দিষ্ট কোনও তথ্য জানাতে পারেননি। তিনি প্রথমে বলেন, ২০০১ সালে আমি ২য় বার হজ্বে যাওয়ার পর কিছু টাকার প্রয়োজন পড়ে। আব্দুর রশীদের সাথে সুসম্পর্ক থাকায় তার কাছে আমি ২ গন্ডা জমি বিক্রি করি। এবং তাকে ৬ গন্ডা জমি দানসূত্রে রেজিস্ট্রি করে দেই। তখন কথা ছিল ৩ গন্ডা জমি আমাকে ফেরত দেবে।

৩ গন্ডা জমি ফেরত দেওয়া প্রসঙ্গে লিখিত কোনও প্রমাণ আছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাকে অনেক বিশ্বাস করতাম। সেই বিশ্বাসের জায়গা থেকে আমি আমি সেটা করেছিলাম।

কোনও আর্থিক লেনদেন হয়েছিল ? এমন প্রশ্নে তিনি প্রথমে লেনদেনের বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে ধাপে ধাপে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দেন। যেমন, দুই লাখ টাকার উপরে, এরপর আরও কিছু সময় পরে বলেন, ৩ লাখ টাকার উপরে। নির্দিষ্টভাবে জানতে চাইলে তিনি কিছুই জানাতে পারেননি। তিনি আরও বলেন এ ব্যাপারে দানপত্র দলিল বাতিল চেয়ে ২০১৫ সালে কোর্টে মামলা নম্বর ৪১/১৫ করা হয়েছে।

অভিযোগের বাদী মানুন দাবি করেছেন পুলিশ নিষেধ করার পরও অভিযুক্তরা টিনের বেড়ার আড়ালে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ কাজ চালু রেখেছে। কিন্তু কাজ চলমান থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন আফতাব উদ্দিন। এব্যাপারে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, পুলিশ কাজ করতে নিষেধ করে গেছে, তাই আমরা কাজ বন্ধ রেখেছি। তবে সোমবার [৪ এপ্রিল ২০২০] বেলা সাড়ে ১১ টায় ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণ কাজ চলমান দেখা যায়। সাংবাদিকদের দেখে ৫-৬ জন নির্মাণ শ্রমিকদের দৌড়ে চলে যেতে দেখা গেছে।

এ ব্যাপারে আফতাব উদ্দিনের মেঝো সন্তান ফয়সাল আহমেদ জানিয়েছেন, ‘এ জমির ব্যাপারে কোর্টে মামলা চলমান রয়েছে। কোর্ট যা সিদ্ধান্ত দেবে আমরা তাই মেনে নিতে বাধ্য’।

এ বিষয়ে সৌদি প্রবাসী ভুক্তভোগী আব্দুর রশীদ একটি ভিডিয়ো বার্তায় জানিয়েছেন, আমি গত ২৯ বছর যাবৎ সৌদিতে বসবাস করছি। আমি ২০০২ সালে হাজী আফতাব উদ্দিনের কাছ থেকে ৮ গন্ডা জমি ক্রয় করি। আফতাব উদ্দিন ২০০২ সালে হজে এসে হারাম শরীফের সামনে বসে আমার কাছ থেকে ৮ গন্ডা জমির সম্পূর্ণ মূল্য প্রতি গন্ডা এক লাখ টাকা করে ৮ লাখ টাকা বুঝে নেয় এবং কথা ছিল আমার বড় ভাইকে সাথে নিয়ে সাফ কাওলা দলিল করে দিবে। কিন্তু তিনি চালাকি করে নিজে নিজে দানপত্র দলিল করে দেয়। পরে আমাকে বুঝ দেয় যে দানপত্র দলিল সাফ কাওলা চাইতে বেশি মজবুত হয়েছে। কারণ এই দলিলের উপর তার ভাই ভাতিজা তারা কেউ আবদার করতে পারবে না। ২০০২ সালে আমি ছুটিতে যাওয়ার পর জমি মেপে দখল বুঝায়া দেয়।

এখন ২০২০ সালে যখন ওই জমিতে বাড়ি করার জন্য আমি লোক পাঠাই, তখন তিনি বাঁধা দেয় এবং বলে আমাদেরকে এই ৩ গন্ডা জমি ফেরত দিয়ে যাবি!

আমার সাথে এরকম ধোঁকাবাজি কেন করা হলো ? আমি প্রশাসনের (কর্তৃপক্ষের) কাছে এর একটা ন্যায়সঙ্গত বিচার চাই।

এ বিষয়ে শ্রীপুর মডেল থানার এসআই রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তদের সাথে কথা বলি। তারা আমাকে বলছে কোর্টে মামলা আছে তবে মামলার কাগজ দেখাতে পারেনি। অভিযুক্তরা সময় নিয়েছে। কোন পর্যন্ত ? কতদিন ? কে সময় দিয়েছে ? এসব প্রশ্নের উত্তর জানাতে পারেননি তিনি।

তিনি আরও বলেন, শান্তি শৃংখলা রক্ষার স্বার্থে তাদেরকে কাজ করতে নিষেধ করে আসছি। তারা কাজ বন্ধ রেখেছে। পূনরায় কাজ চালু করে থাকলে আবারও দেখবো বিষয়টা।
সূত্র: যোগফল







এ জাতীয় আরো খবর..




FOLLOW US

ই-মেইল: ‍atozsangbad@gmail.com
ফেইসবুক
ইউটিউব

পুরাতন খবর

sidebar middole




side bottom




© All rights reserved © atozsangbad.com
Design & Developed by: ATOZ IT HOST
Tuhin
x