• বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:২৭ অপরাহ্ন
Headline
সমাজ উন্নয়নে অংশীদারীত্ব হয়ে কাজ করে যাচ্ছেন সাবেক ছাত্রনেতা ফয়সাল এখনই উঠছে না লকডাউন। বাড়ছে বিধিনিষেধ। সিদ্ধান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয়ের। শ্রীপুরে রাস্তা পার হতে গিয়ে কাভার্ড ভ্যান চাপায় স্বামী-স্ত্রী নিহত কঠোর লকডাউন কতোটা ফলপ্রসূ? সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ। করোনায় স্বাস্থ্যবিধি মানতে নড়াইলে মাশরাফির ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ কি কি থাকছে সাত দিনের কঠোর লকডাউনে? লাগামহীন করোনার ভয়াবহতা! সোমবার থেকে কঠোর লকডাউন, মাঠে থাকবে সেনাবাহিনী। দেশের শীর্ষ পর্যটনকেন্দ্রের তালিকায় অপার সম্ভাবনার নাম সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা নতুন সাতটি প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর সম্পূর্ণ করলো শ্রেষ্ঠ ডট কম রাণীনগরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে একই পরিবারের তিন জনকে অপহরণ নাটোক!




সন্তান মায়ের শ্রেষ্ঠসম্পদ, স্রষ্টার সেরা উপহার। স্বপ্ন জয়ের লক্ষ্য, মনোযোগায়ন হোক, মায়ের অঙ্গীকার

Reporter Name / ৬১১ Time View
Update : শুক্রবার, ২৬ অক্টোবর, ২০১৮




পরিবার হচ্ছে পৃথিবীর প্রথম ও সবচেয়ে শক্তিশালী সংগঠন। আর এ সংগঠনের মূল কর্ণধার হচ্ছেন মাতাপিতা। মাতাপিতার সাথে সন্তানের রয়েছে রক্তীয় ও আত্মিক সর্ম্পক। এই রক্তীয় সর্ম্পকই অনেক সময় আত্মিক হয়ে ওঠে না-তার প্রধাণ কারণ, মনোযোগায়নের অভাব। মনোযোগায়ন মানে গভীর মনোযোগ।মনোযোগ থেকেই উদ্বুদ্ধ হয় মমত্ববোধ। আর একটি পরিবারকে টিকিয়ে রাখে অদৃশ্য মমতার সেতু বন্ধন, যাকে বলা একাত্মতা। মূলত: মনোযোগই আমাদেরকে শিশুর সাথে করে একাত্ম।এই ভাবেই গড়ে ওঠে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে হৃদ্যতা, ভালবাসা, আত্মিকবন্ধন ও একাত্মতা।  শিশুদের শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও আত্মিক বিকাশ তথা তাদের মেধা, মননশীলতা বিকাশে মনোযোগায়নের কোন বিকল্প নেই। মূলত: একটি শিশুর সর্বাঙ্গীন সুন্দর, সুস্থ জীবনবোধ প্রতিষ্ঠিত করা যাবে কেবল মাত্র সন্তানের প্রতি মাতাপিতা মনোযোগী হলে।

এই মুহুর্তে প্রয়াত জাতীয় অধ্যাপক এম আর খান স্যারের চমৎকার একটি লেখার প্রতি আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। তিনি বলেছেন-“শিশুরা হচ্ছে আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বর্পূণ সম্পদ।একটি শিশুর ভালো বেড়ে ওঠা যদি আপনি নিশ্চিত করতে পারেন তাহলে একজন সফল মানুষ, ভালো মানুষের গ্যারান্টিও আপনি পেতে পারেন।” স্যারের এমন অমীয় বাণীর মূল কথার অনুধাবনেও কিন্তু মনোযোগ প্রসঙ্গটিই চলে আসে। আসলে মনোযোগই হচ্ছে সন্তানকে শ্রেষ্ঠ সম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে মূল সহায়ক।

সম্মানিত অভিভাবকদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে বলছি, আপনারা সবাই সন্তানের ভালো রেজাল্ট চান, সন্তান মানুষের মত মানুষ হোক তা চান, সন্তানের সাফল্যে বাহবা পেতে চান এবং একজন সুসন্তানের গর্বিত মা হিসেবে, রত্নগর্ভা মা হিসেবে সমাজে প্রতিষ্ঠাও পেতে চান। চমৎকার কথা! তা হলে আমি বলব-আপনার সন্তানকে নিয়ে আপনি বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখুন। তবে এ স্বপ্ন চোখে-মুখে লেগে থাকা এমন কোন স্বপ্ন, যা আপনাকে ঘুমাতে দেবে না।স্বপ্নই আপনাকে জাগিয়ে দেবে। বলবে উঠুন, আপনাকে স্বপ্ন পূরণ করতে হবে। শুয়ে থাকলে চলবে না, সন্তানকে মানুষ করতে হবে, আদর্শ মানুষ।

সম্মানিত পাঠক, এই স্বপ্নের কথাই বলেছেন- ভারতরত্ন, ভারতের প্রয়াত রাষ্ট্রপতি ও খ্যাতিমান পরমানু বিজ্ঞানী এপিজে আবদুল কালাম। তিনি বলেছেন, স্বপ্ন সেটি নয়, যা মানুষ ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে দেখে। বরং স্বপ্ন হচ্ছে সেটি যা মানুষকে ঘুমাতেই দেয় না।’ এই স্বপ্ন আপনাকে শয়নে-স্বপনে, জাগরণে কর্মে, ধ্যানে-জ্ঞানে, আপনার প্রার্থীত লক্ষ্যের স্বপ্নানুরণন আপনার সন্তানকে মানুষ করে গড়ে তোলার জন্য দুর্দমনীয় আগ্রহ ও উদ্যম সৃষ্টি করবে। আপনি আপনার ভেতর থেকে একটা তাড়না অনুভব করবেন আর এই তাড়নাই আপনাকে নিয়ে যাবে আপনার কাঙ্খিত লক্ষ্যে। উল্লেখ্য যে, এসব ক্ষেত্রে আর্থিক দৈন্যতা বা যেকোন সমস্যা কোন প্রতিবন্ধকতাই সৃষ্টি করতে পারবে না। আন্তজার্তিক পরিমন্ডলে বিখ্যাত লোকদের জীবনী পড়লেই জানতে পারবেন এই পৃথিবীতে খ্যাতিমান যাঁরা, তাঁরা অধিকাংশই খুব সাধারণ অবস্থা থেকেই এসেছেন।

গত ৩রা ফেব্রুয়ারী ২০১৪ বিশ্ববিখ্যাত টাইম ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদ প্রতিবেদনের বিষয় ছিল-“দি মাইন্ডফুল রেভুল্যুশন” ‘মনোযোগায়নের বিপ্লব’। এ প্রতিবেদনের মূলকথা ছিল, মনোযোগদিন, আপনি ভাল থাকবেন। যা কিছু করেন না কেন, মনোযোগ দিয়ে করুন। সুপ্রিয় অভিভাবক, বিনয়ের সাথে বলছি-স্বপ্ন জয়ের লক্ষ্যে, মনোযোগায়নের বিপ্লবের মাধ্যমে আপনার সন্তানকে একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলুন। আর জগতকে উপহার দিন একজন ভাল মা, একজন মাদকমুক্ত সন্তান। যা পরিবার, সমাজ দেশ তথা সমগ্র জাতি উপকৃত হবে, সমৃদ্ধ হবে। সর্বোপরি সামাজে মাদকাসক্তি ও বিপথগামীতার আশংকাও কমে আসবে। সুতরাং এগিয়ে যান লক্ষ্যস্থির করে, মনের শক্তিকে পুঁজি করে। উল্লেখ্য যে, মনোযোগ তখনি সহজ হয় যখন সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য কারো সুস্পষ্ট, সুনির্দিষ্ট কোন লক্ষ্য থাকে। এতে মনের শক্তি নিজ থেকে উদ্বুদ্ধ হয়। আর পরিচালিত করে মানুষের কর্মধারাকে তার লক্ষ্য অর্জনের দৃঢ়তায়।

লেখক – কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক 





আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category




side bottom